সুদিনের আভাস পেতে শুরু করেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পরিষেবা খাত। মূলত দেশগুলোয় নভেল করোনাভাইরাসজনিত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ার পর এ খাতে প্রাণ ফিরতে শুরু করে। ভোক্তা চাহিদা অনুযায়ী এবং পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে এরই মধ্যে নানা ধরনের উদ্যোগ নিতে শুরু করেছে বিলাসবহুল হোটেল ও থিম পার্ক কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে পরিষেবা খাত ঘিরে বাড়ছে বিনিয়োগও। খবর নিক্কেই এশিয়া।

মহামারীর কারণে দীর্ঘ সময় পর্যটকরা কোথাও ঘুরতে যেতে পারেননি। এখন বিধিনিষেধ ওঠায় ভ্রমণের পরিমাণ বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়েনি সংশ্লিষ্ট খাতগুলোয় কর্মী সংখ্যা। অর্থাৎ পর্যটকের সংখ্যা মহামারীর আগের পর্যায়ে পৌঁছে গেলেও কর্মী সংকট এখনো রয়েছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে বিলাসবহুল হোটেলগুলোয় প্রচুর পর্যটক আসতে শুরু করেছেন। দেশটির সেন্ট্রাল গ্রুপ হোটেল ব্যবসায় ২ হাজার কোটি বাথ বিনিয়োগের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। দেশটিতে গ্রুপটির পরিচালিত হোটেলের সংখ্যাও বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। যদিও এ মুহূর্তে সেন্ট্রাল গ্রুপের হোটেল ব্যবসার আয় মহামারীর আগের সময়ের চেয়ে খারাপ। কিন্তু যে পরিমাণ পর্যটক আসতে শুরু করেছেন, তা মহামারীর আগের সময়ের মতোই। তাই বিনিয়োগ বাড়িয়ে ব্যবসার পরিধি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে গ্রুপটি।

একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের হোটেল চেইন স্ট্যান্ডার্ন্ড ইন্টারন্যাশনাল গত জুলাইয়ে ব্যাংককে দ্য স্টান্ডার্ড হোটেলের দ্বিতীয় শাখা খুলেছে। আরেক মার্কিন চেইন ম্যারিওট ইন্টারন্যাশনাল ২০২৩ সালে তাদের সবচেয়ে বিলাসবহুল হোটেল দ্য রিজ কার্লটনের শাখা খুলতে যাচ্ছে ব্যাংককে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় প্রথমবারের মতো ছয় তারকাবিশিষ্ট হোটেল চালু করেছে দ্য পার্ক হায়াত। দেশটির প্রেসিডেন্টের বাসভবনের খুব কাছেই এর অবস্থান।

বেশির ভাগ হোটেলই এখন পর্যটকে পরিপূর্ণ। নতুন বছরের শুরুর ছুটির মৌসুমকে কেন্দ্র করে দারুণ ব্যবসা করছে এসব প্রতিষ্ঠান। শুধু হোটেল-রেস্তোরাঁই নয়; ব্যবসা ফিরছে থিম পার্কের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলোয়ও। গত অক্টোবরে থাইল্যান্ডে কলম্বিয়া পিকচার্স অ্যাকুয়াভার্স নামে থিমপার্ক চালু করে সনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্ট। মার্কিন প্রতিষ্ঠানটি বলছে, পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষণ করছে এ পার্ক। এছাড়া দুই বছর বন্ধ থাকার পর খুলেছে সিঙ্গাপুরের নাইট ক্লাব ও ডিস্কোগুলো। খোলা হচ্ছে নতুন নতুন ডিপার্টমেন্টাল স্টোর। মিয়ানমারের বড় শহর ইয়াংগুনে নতুন নতুন ক্যাফে ও বার চালু হতে শুরু করেছে।

পর্যটন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলের দেশগুলোয় যে কেবল বিদেশী পর্যটকের পরিমাণ বেড়েছে তা নয়, একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ পর্যটকদের চাহিদাও বেড়েছে। গত বছরের প্রথম ১১ মাসে ভিয়েতনামের ৯ কোটি ৬০ লাখ পর্যটক কেবল দেশের ভেতরেই ভ্রমণ করেছেন, যা মহামারীর আগের বছরের হিসাবকেও ছাড়িয়ে গেছে।

এশিয়ার এ অঞ্চলের পর্যটন ও পরিষেবা খাত যে কেবল ব্যবসায় প্রবৃদ্ধিই করছে তা নয়। মোকাবেলা করতে হচ্ছে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে কর্মী সংকট। মহামারীর কারণে কর্মী ছাঁটাইয়ের পর এখন নতুন করে নিয়োগ দেয়া ও দক্ষ কর্মী পাওয়াও এক ধরনের চ্যালেঞ্জ। যদিও মজুরি বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।