নভেল করোনাভাইরাসের মহামারীর জের ধরে চলতি বছরের শুরু থেকে বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন খাত ক্রমেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। বিশ্বজুড়ে কমতে শুরু করে শিল্প ধাতুটির উৎপাদন। বছরের প্রথম মাসে যেখানে বিশ্বজুড়ে ১৫ কোটি টনের বেশি ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল, এপ্রিল নাগাদ তা কমতে কমতে ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টনে নেমে আসে। এমনকি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ শতাংশ কমে যায়। তবে মে মাস থেকে শিল্প ধাতুটির বৈশ্বিক উৎপাদন বছরের প্রথম পর্যায়ের তুলনায় বাড়তে শুরু করেছে। এ ধাবাহিকতায় সর্বশেষ জুলাইয়ে বিশ্বজুড়ে ফের ১৫ কোটি টনের বেশি ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। তবে আগের মাসের তুলনায় বাড়লেও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জুলাইয়ে বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন ২ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউএসএ) সর্বশেষ মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স ও মেটাল বুলেটিন।

শীর্ষ ৬৪ উৎপাদনকারী দেশে শিল্প ধাতুটির উৎপাদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে ডব্লিউএসএ জানিয়েছে, চলতি বছরের জুলাইয়ে বিশ্বজুড়ে ১৫ কোটি ২৭ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ কম। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ১২ হাজার টন। করোনা মহামারীর জের ধরে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে শিল্প ধাতুটির বৈশ্বিক উৎপাদন কমে দাঁড়ায় যথাক্রমে ১৪ লাখ ৪৪ হাজার ও ১৪ লাখ ৭১ হাজার টনে।

মহামারীর কারণে গত এপ্রিলে বিশ্বজুড়ে মোট ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছে ডব্লিউএসএ। চলতি বছর এটাই ইস্পাতের সর্বনিম্ন মাসভিত্তিক উৎপাদনের রেকর্ড। মে মাসে শিল্প ধাতুটির উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ কোটি ৮৮ লাখ টনে। জুনে ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৪ কোটি ৮৩ লাখ টন। সেই হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমলেও জুনের তুলনায় জুলাইয়ে বিশ্বজুড়ে ইস্পাত উৎপাদন বেড়েছে ৪০ লাখ টনের বেশি। জানুয়ারির পর শুধু জুলাইয়ে বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন ১৫ কোটি টন ছাড়িয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছর শিল্প ধাতুটির সর্বোচ্চ মাসভিত্তিক উৎপাদনে রেকর্ড হয়েছে।

বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশ চীনে চলতি বছরের জুলাইয়ে শিল্প ধাতুটির সম্মিলিত উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৩৪ লাখ টনে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। এ সময় জাপানে শিল্প ধাতুটি উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৬০ লাখ টন। দেশটিতে এক বছরের ব্যবধানে ইস্পাত উৎপাদন ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। গত জুলাইয়ে দক্ষিণ কোরিয়ায় শিল্প ধাতুটির উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৫৫ লাখ টনে নেমে এসেছে।

চলতি বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রে সব মিলিয়ে ৫২ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ কম। এ সময় তুরস্কে শিল্প উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৩১ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে।

ডব্লিউএসএর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে ইউক্রেনে ১৮ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ কম। এ সময় সিএসআইভুক্ত দেশগুলোয় ইস্পাতের সম্মিলিত উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৮১ লাখ টনে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কম।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোয় গত জুলাইয়ে সব মিলিয়ে ৯৮ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে ডব্লিউএসএ। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এসব দেশে শিল্প ধাতুটির সম্মিলিত উৎপাদন কমেছে ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ। এর মধ্যে জার্মানিতে শিল্প ধাতুটির উৎপাদন এক বছরের ব্যবধানে ২৪ দমমিক ৭ শতাংশ কমে ২৪ লাখ টনে নেমে এসেছে। তবে ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ইস্পাত উৎপাদন আগের তুলনায় বেড়েছে।