জ্বালানি তেলের পর এবার রাশিয়া থেকে কয়লা আমদানি বাড়াচ্ছে ভারত। পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞায় পড়া জ্বালানি পণ্যটির আমদানি দ্বিগুণ করছে এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতির দেশটি। এরই মধ্যে গত মার্চে রেকর্ড পরিমাণ কয়লা আমদানি করেছে ভারত। আগামীতে আমদানি আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে তারা। খবর সিএনবিসি।

ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার কবলে রাশিয়া। দেশটি থেকে জ্বালানি তেল আমদানি বন্ধ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জ্বালানি তেল বাণিজ্যের ওই সংকটের সময় রাশিয়া থেকে ছাড়ে বাড়তি আমদানি করে ভারত। এরই মধ্যে সম্প্রতি রাশিয়া থেকে কয়লা আমদানি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করেছে ইউরোপীয় কমিশন। সেটি হলে রুশ জ্বালানি পণ্যটির বাজার বড় সংকোচনের মধ্যে দিয়ে যাবে। তবে জ্বালানি তেলের মতো কয়লা বাণিজ্যেও মস্কোর পাশে দাঁড়িয়েছে নয়াদিল্লি। দেশটিতে কয়লার চাহিদা এখন ঊর্ধ্বমুখী। বিপরীতে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া রাশিয়া থেকে কম দামে পণ্য কিনে একদিকে যেমন দেশটি ব্যবসায়িকভাবে লাভবান, অন্যদিকে সংকটকালীন রাশিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে বন্ধুত্বের পরীক্ষা দিচ্ছে নয়াদিল্লি। পশ্চিমাদের হুমকি উপেক্ষা করে জ্বালানি তেল ও কয়লার মতো পণ্য আমদানিতে ক্রমেই রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে দেশটি।

পণ্যবাজারবিষয়ক বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য বলছে, গত মার্চে রাশিয়া থেকে ১০ লাখ ৪০ হাজার টনের মতো কয়লা আমদানি করে ভারত, যা ২০২০ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। এর মধ্যে মার্চে আমদানি করা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কয়লা এসেছে যুদ্ধ শুরুর পর।

এ বিষয়ে কমনওয়েলথ ব্যাংক অস্ট্রেলিয়ার খনিজ ও জ্বালানি পণ্যের বিশ্লেষণকারী টিমের পরিচালক ভিবেক ধর বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে রাশিয়া থেকে ভারত ও চীনে কয়লা আমদানির পরিমাণ আরো বাড়াতে পারে। আর সেটি হলে ইউরোপসহ পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার সম্ভাব্য প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারবে মস্কো।

কয়লার ভোক্তা দেশগুলোর মধ্যে চীন ও ভারত যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ। অন্যদিকে রাশিয়া বিশ্বের ষষ্ঠ শীর্ষ উত্তোলনকারী দেশ। দেশটির কয়লার বড় অংশই রফতানি হয় এশিয়ার দেশগুলোয়। ২০২০ সালে মোট রফতানির ৫৪ শতাংশই গিয়েছে এ অঞ্চলের দেশগুলোয়। ৩১ শতাংশের গন্তব্য ছিল ইউরোপের ওইসিডিভুক্ত দেশগুলো। গত বছর রাশিয়া থেকে মোট চাহিদার ২ শতাংশের মতো কয়লা আমদানি করে ভারত। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী আমদানি অব্যাহত থাকলে ভারতে রাশিয়ার কয়লার বাজার দ্রুতই বড় হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকরা। ভারত সরকারের পক্ষ থেকেও সম্প্রতি রুশ কোকিং কোল আমদানি আরো বাড়ানোর কথা জানানো হয়েছে। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ চেইনে এখন পশ্চিমাদের পাশ কাটিয়ে ক্রমেই রাশিয়ামুখী হচ্ছে ভারত।