গমের বৈশ্বিক চাহিদায় তেমন প্রবৃদ্ধি নেই। এছাড়া অব্যাহত দরপতনের সঙ্গে লড়ছে কৃষিপণ্যটির আন্তর্জাতিক বাজার। এর সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে প্রতিকূল আবহাওয়া। সব মিলিয়ে খাদ্যপণ্যটির আবাদে আগ্রহ পাচ্ছেন না বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরা। এবারের মৌসুমে দেশটির শীতকালীন গমের আবাদ কমে ১১০ বছরের সর্বনিম্নে নেমে আসতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। খবর ব্লুমবার্গ।

চাহিদা অনুপাতে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় চলতি বছর গমের দাম আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের গমচাষী কেন হর্টোন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েকটি অংশে ভুট্টার তুলনায় গম সস্তা হয়ে পড়েছে। এতে পণ্যটির আবাদে চাষীরা উৎসাহ হারাচ্ছে। তিনি নিজেই এবার হার্ড রেড উইন্টার গমের আবাদ গত বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমিয়ে তিন হাজার একরে নামিয়েছেন।

মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) তথ্য অনুযায়ী, বছরের শুরু থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে শীতকালীর গমের আবাদ এগিয়েছে ৮৫ শতাংশ। গত বছরের একই সময়ে আবাদের পরিমাণ ছিল ৭৭ শতাংশ। তবে দেশটির মধ্যপশ্চিম অঞ্চলের কিছু অংশে অসময়ে বৃষ্টি নামায় কৃষিপণ্যটির আবাদ ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া দো-ফসলি জমিতে আগের শস্য সংগ্রহ করতে না পারায় নতুর শস্য আবাদ বিলম্বিত হচ্ছে।

দেশটির কানসাস শহরের আইএনটিএল এফসিস্টোনের প্রধান পণ্য অর্ধনীতিবিদ আরলান সুডারম্যান বলেন, কৃষকরা এখনো ক্ষেতের সয়াবিন সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়নি, ফলে ওই জমিতে নতুন ফসল আবাদ স্থগিত রয়েছে।

ইউএসডিএর তথ্য অনুযায়ী, এবার মৌসুমে দেশটির শীতকালীন গম আবাদ কমে দাঁড়াতে পারে ৩ কোটি ১১ লাখ ১৮ হাজার একর জমিতে। আগের বছর আবাদের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ১১ লাখ ৫৯ হাজার একর। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষিপণ্যটির আবাদ কমতে পারে ৪১ হাজার একর।