ভারত মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদনেই তাপীয় কয়লা ব্যবহার করে। বিদ্যুতের ব্যাপক চাহিদার কারণে বিদায়ী বছর দেশটি এ জ্বালানি পণ্যের আমদানি ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়িয়েছে। মোট আমদানি করা হয়েছে ১৬ কোটি ১১ লাখ ৮০ হাজার টন। ভারতীয় বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কোলমিন্ট গতকাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, তাপীয় কয়লার পাশাপাশি ইস্পাত উৎপাদনে ব্যবহূত ধাতব কয়লা আমদানিও কিছুটা বেড়েছে। আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৬১ লাখ টনে, যা ২০২১ সালের তুলনায় দশমিক ৮ শতাংশ বেশি। এছাড়া অ্যানথ্রাসাইট কয়লা আমদানি ১২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১৭ লাখ ৯০ হাজার টন ও পিসিআই কয়লা আমদানি ৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৩৪ লাখ ৩০ হাজার টনে উন্নীত হয়েছে।

ভারত গত বছর ৯৭ লাখ ৭০ হাজার টন পেট্রোলিয়াম কোক (কয়লাভিত্তিক জ্বালানি) আমদানি করেছে। এটি মূলত সিমেন্ট উৎপাদন কেন্দ্রে ব্যবহার করা হয়। জ্বালানিটি কয়লার চেয়ে তুলনামূলক সাশ্রয়ী। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর এটির দাম রেকর্ড উচ্চতায় আরোহণ করেছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ইউটিলিটি প্রতিষ্ঠানগুলোয় ব্যাপক চাহিদার কারণে গত বছর তাপীয় কয়লা আমদানি বাড়িয়েছে ভারত। করোনাভাইরাসসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় গত বছর দেশটিতে শিল্প-কারখানার উৎপাদনে দ্রুত প্রসার ঘটে। বিদ্যুতের চাহিদায় দেখা দেয় উল্লম্ফন। বছরের প্রথমার্ধে তীব্র দাবদাহের কারণে চাহিদা আরো তীব্র হয়ে ওঠে। 

সরকারি তথ্যমতে, গত বছরের ১১ মাসে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তাপীয় কয়লা আমদানি ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় ৫৮ দশমিক ১ শতাংশ বাড়িয়েছে। আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৭৬ লাখ টনে। তবে ইউটিলিটি প্রতিষ্ঠানগুলোর আমদানির তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভারতে শীর্ষ তাপীয় কয়লা সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে ইন্দোনেশিয়া। গত বছর এক্ষেত্রে দেশটির হিস্যা বেড়ে দুই-তৃতীয়াংশ হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আমদানিতে বেশি ব্যয়ের কারণে ইন্দোনেশিয়াই ছিল ভারতের প্রথম পছন্দ। এদিকে রাশিয়াকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় শীর্ষ সরবরাহকারী হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র ভারতে গত বছর কয়লা সরবরাহে বাজার হিস্যা বাড়িয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। ইস্পাত উৎপাদকরা দেশটি থেকে ৭০ লাখ ৩০ হাজার টন ধাতব কয়লা আমদানি করেছে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার হিস্যা কমে ৬৮ শতাংশে নেমেছে। এর আগে ভারতের কয়লা বাজারে দেশটির হিস্যা ছিল ৮০ শতাংশ। গত বছর রাশিয়া ভারতে সবচেয়ে বেশি পিসিআই কয়লা সরবরাহ করেছে। রফতানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৩ লাখ ৩০ হাজার টনে।