২০২৪ সালের জন্য টানা তৃতীয়বার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস সংশোধন করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। মন্থর ভোক্তা ব্যয়, দুর্বল রফতানি ও নির্মাণ খাতে বিনিয়োগ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ায় নতুন করে পূর্বাভাস কমিয়েছে ব্যাংক অব কোরিয়া (বিওকে)। খবর নিক্কেই এশিয়া।

দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্প্রতি প্রকাশিত কোয়ার্টারলি আউটলুক রিপোর্ট অনুসারে, ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রকৃত মোট জিডিপি বাড়বে ২ দশমিক ১ শতাংশ, যা আগস্টের প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল ২ দশমিক ২ শতাংশ। আর বছরের শুরুর দিকে অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ২ দশমিক ৪ শতাংশ।

এদিকে ২০২৩ সালের জন্য এখনো ১ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস অব্যাহত রেখেছে ব্যাংক অব কোরিয়া। তবে ২০২৫ সালে দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সে হিসেবে ব্যক্তিগত খরচ এখন ১ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়ছে, যা আগস্টের প্রক্ষেপণ ২ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কম। নির্মাণ খাতে বিনিয়োগ ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমানো হয়েছে, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।

গত পাঁচ বছরে দক্ষিণ কোরিয়ার রিয়েল এস্টেটের মূল্য প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে, যা এ সংশোধনগুলোর পেছনে কারণ হিসেবে কাজ করেছে। একই সঙ্গে এটি পারিবারিক ঋণ বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রেখেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার ৮০ শতাংশের বেশি মর্টগেজে পরিবর্তনশীল সুদহার কার্যকর হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদহার বৃদ্ধির কারণে মর্টগেজ হারও বেড়েছে। এছাড়া অক্টোবরে নতুন ঋণের সুদহার গড়ে প্রায় ৫ দশমিক ২ শতাংশ করা হয়েছে। এতে পরিবারগুলো অর্থনৈতিকভাবে চাপে পড়েছে এবং ব্যয় সংকোচনে বাধ্য হচ্ছে।

এদিকে রিয়েলে এস্টেটের দামও দেশটিতে এখন নিম্নমুখী। বড় বড় শহরের বাইরে কন্ডোমিনিয়ামের দাম কমছে। রাজধানী সিউলেও এ প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে, যা দেশটির জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমের একটি বড় অংশের জন্য দায়ী।

দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতে রফতানি খাতের একটি বড় ভূমিকা রয়েছে। তবে বর্তমানে দেশটিতে এ খাতের অবস্থা বেশ দুর্বল। সিউলের মোট রফতানির এক-পঞ্চমাংশের প্রতিনিধিত্ব করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প। বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি পণ্যের চাহিদা কমে আসায় কোরিয়ান সেমিকন্ডাক্টর রফতানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। এছাড়া চীনের অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ইস্পাত ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।