করোনা মহামারীর মধ্যে ভারতের মধ্যপ্রদেশের সয়াবিনচাষীরা নতুন ধরনের সংকটে পড়েছেন। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় প্রদেশটিতে থেকে থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রদেশের সয়াবিন ক্ষেতগুলোয় এক ধরনের ক্ষতিকারক পতঙ্গের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে উৎপাদনহীনতার ঝুঁকিতে পড়েছেন প্রদেশটির সয়াবিনচাষীরা। বৈরী আবহাওয়া ও ক্ষতিকারক পতঙ্গের প্রকোপে এবার মধ্যপ্রদেশে সয়াবিন উৎপাদন ১০-১২ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ও ইকনোমিক টাইমস।

ইন্দোরভিত্তিক সয়াবিন প্রসেসর্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (এসওপিএ) এক জরিপভিত্তিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রতি বছর জুলাইয়ে টানা বৃষ্টি হয়। এবার মধ্যপ্রদেশে জুলাইয়ে থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। সয়াবিনের আবাদে এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে। একই সঙ্গে এবার মধ্যপ্রদেশের সয়াবিন ক্ষেতগুলোয় এক ধরনের ক্ষতিকারক মাছির (স্টিম ফ্লাই) সংক্রমণ দেখা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত করছে ক্ষেত। বিরূপ প্রভাব ফেলছে আবাদে। মূলত এ কারণে চলতি বছর মধ্যপ্রদেশে সয়াবিন উৎপাদন ১০-১২ শতাংশ কমে আসতে পারে। মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর, উজ্জয়িনী, হারদা, শাজাপুরসহ কয়েকটি জেলায় জরিপ চালিয়ে এ পূর্বাভাস দিয়েছে এসএওপি।

ভারতে খরিফ মৌসুমে উৎপাদিত কৃষিপণ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম সয়াবিন। মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, রাজস্থানের বিভিন্ন জেলায় কৃষিপণ্যটির উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হয়। গত মাসে প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে এসওপিএ জানিয়েছে, ২০২০ সালে ভারতে সব মিলিয়ে ১ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার টন সয়াবিন উৎপাদন হতে পারে। এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে কৃষিপণ্যটির উৎপাদন বাড়তে পারে ৩২ শতাংশ। মূলত আবাদ বেড়ে যাওয়ার জের ধরে চলতি বছর ভারতে সয়াবিনের উৎপাদনে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।

এর মধ্যে শুধু মধ্যপ্রদেশে বৈরী আবহাওয়া ও ক্ষতিকারক পতঙ্গের প্রকোপে সয়াবিন উৎপাদন সর্বোচ্চ ১২ শতাংশ কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এসওপিএ। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনযায়ী, এবার মদ্যপ্রদেশে সব মিলিয়ে ৫৮ লাখ টন সয়াবিন উৎপাদন হতে পারে।

এদিকে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালে ভারতে ১ কোটি ৫ লাখ টন সয়াবিন উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে কৃষিপণ্যটির উৎপাদন বাড়তে পারে ১২ দশমিক ৯ শতাংশ।