ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনের ওপর আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। প্রতিবাদ হিসেবে সে সময় অসংখ্য পশ্চিমা কোম্পানি রাশিয়া থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়। বিশ্বের বড় ব্র্যান্ডগুলো রাশিয়ায় পণ্য সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দেয়। গত মার্চেই সেই মিছিলে যোগ দেয়ার কথা জানিয়েছিল পোশাকের ব্র্যান্ড গ্যাপ। তবে সম্প্রতি জানা গিয়েছে, ঘোষণা দিলেও আদতে রাশিয়ায় পোশাক পণ্য সরবরাহ বন্ধ করেনি গ্যাপ। রাশিয়ার কাস্টমস কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এমন তথ্যই জানিয়েছে রয়টার্স।

গত ১০ মার্চ সানফ্রান্সিসকোভিত্তিক কোম্পানিটি তার কর্মীদের উদ্দেশে একটি বার্তা পাঠায়। সেখানে বলা হয়, গত ৫৩ বছর সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছে গ্যাপ। এখন রাশিয়ার মস্কোতে আমাদের ছোট ফ্র্যাঞ্চাইজিতে পোশাক সরবরাহ বন্ধ করে দেয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছি।

কিন্তু রাশিয়ার কাস্টমসের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ১১ মার্চ থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত মস্কোয় অবস্থিত গ্যাপের ফ্র্যাঞ্চাইজিতে ১ হাজার ৫৮৫টি চালানে পোশাকপণ্য পাঠানো হয়েছে। যার ঘোষিত মূল্য ৫২ লাখ ডলার। এর এক-তৃতীয়াংশই পাঠিয়েছে গ্যাপ ইউরোপ লিমিটেড, যা গ্যাপ ইনকরপোরেশনের লন্ডনভিত্তিক ইউনিট।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাশিয়ায় কোন কোন পণ্য আমদানি বা রফতানি হয়েছে তার বিস্তারিত তথ্য রয়েছে কাস্টমসের কাছে। সেখান থেকে দেখা যায়, গ্যাপের এসব চালানে বিভিন্ন ধরনের পণ্য এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে শিশুদের মোজা, পায়জামা, নারীদের ব্লাউজ, পুরুষদের অন্তর্বাসসহ নানা কিছু।

রাশিয়ায় পণ্য না পাঠানোর বিষয়ে পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর যে প্রতিশ্রুতি, সেখানে কাপড়ের উল্লেখ নেই। কারণ কাপড় বিলাসদ্রব্যের পর্যায়ে পড়ে না। আবার কাপড় সরবরাহ বন্ধ করে দিলে সাধারণ রাশিয়ানদের ওপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। সে হিসেবে কাপড় সরবরাহকে নেতিবাচক হিসেবে দেখা না হলেও, মার্চে গ্যাপ যে বার্তা দিয়েছিল তার সঙ্গে বিষয়টি সাংঘর্ষিক। কারণ গত অক্টোবরেও রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে এক ফিরতি মেইলে গ্যাপের মুখপাত্র জানিয়েছিলেন, মার্চে বন্ধ হওয়া পোশাক সরবরাহ তখন পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি। পরে গ্যাপের কাছে কাস্টমস থেকে পাওয়া তথ্য উপস্থাপন করে সংবাদমাধ্যমটি। সেখানে দেখানো হয়, যে ১ হাজার ৫৮৫টি চালানে গ্যাপের পণ্য রাশিয়ায় পৌঁছেছে সেগুলো পরিচালনা করেছে ফিবা পেরাকেন্দে গ্রুবু। তুরস্কভিত্তিক এ প্রতিষ্ঠান রাশিয়া, তুরস্ক ও ইউক্রেনে গ্যাপের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো পরিচালনা করে। এসব তথ্যপ্রমাণ পাওয়ার পর গ্যাপের মুখপাত্র স্বীকার করেন, কর্মীদের কাছে বার্তা দেয়ার পরও এক মাস মস্কোতে পোশাক পাঠানো হয়েছে।

অবশ্য এর পেছনে যুক্তিও দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তারা বলছে, এসব পোশাকের ক্রয়াদেশ অনেক আগেই এসেছিল। তাদের ফ্র্যাঞ্চাইজি পার্টনার তাদের চূড়ান্ত ক্রয়াদেশের মাধ্যমে দেয়া পণ্যের সরবরাহ এপ্রিল পর্যন্তই পেয়েছে। চূড়ান্ত ক্রয়াদেশের পর রাশিয়ায় আর কোনো চালান বা পণ্য বিক্রি করেনি গ্যাপ।

তবে ঠিক কবে এসব পণ্যের ক্রয়াদেশ দেয়া হয়েছিল সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি গ্যাপ। এসব পণ্য কেন জুলাই পর্যন্ত রাশিয়ায় কাপড়ের চালান গিয়েছে সে সম্পর্কে জানতে চাইলে ফিবা পেরাকেন্দে বলছে, তুরস্ক হয়ে পৌঁছতে চালানগুলোর সময় বেশি ব্যয় হয়েছে। আবার রাশিয়ার কাস্টমসেও পণ্য হ্যান্ডলিংয়ে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয়েছে। যদিও রয়টার্সের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, বেশির ভাগ চালানই তুরস্ক হয়ে এসেছে এমন কোনো প্রমাণ নেই। তবে এ বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে তার জবাব দেয়নি ফিবা পেরাকেন্দে।