ভারতে প্রথমবারের মতো তৈরি হতে যাচ্ছে বেসামরিক হেলিকপ্টার। সম্প্রতি ফ্রান্সের এয়ারবাসের সঙ্গে এ বিষয়ে চুক্তিতে উপনীত হয়েছে দেশটির অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী টাটা গ্রুপ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর দিল্লিতে রাষ্ট্রীয় সফরকালে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয় বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কোয়াত্রা। খবর নিক্কেই এশিয়া ও দ্য হিন্দু।
টাটা ও এয়ারবাসের ব্যবসায়িক সখ্য এবারই প্রথম নয়। তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজ্য গুজরাটে সি-২৯৫ পরিবহন উড়োজাহাজ উৎপাদনে কাজ করছে। এখন হেলিকপ্টারের দিকেও মনোযোগ দিচ্ছে।
সংবাদমাধ্যমকে দেয়া বিবৃতিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘দেশীয় ও স্থানীয় প্রযুক্তিতে উৎপাদিত সরঞ্জামের মাধ্যমে এইচ১২৫ হেলিকপ্টার উৎপাদনের জন্য সংস্থা দুটির মধ্যে শিল্প অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে।’
এ চুক্তির ফলে ভারতে একটি ফাইনাল অ্যাসেম্বলি লাইন (এফএএল) স্থাপনে কাজ করবে টাটা ও এয়ারবাস। স্থানীয় চাহিদা পূরণের সঙ্গে সঙ্গে এইচ১২৫ একক ইঞ্জিন সিভিল হেলিকপ্টার প্রতিবেশী দেশে রফতানির লক্ষ্যও রয়েছে তাদের।
অ্যাসেম্বলি সেটআপ তৈরি করতে ২৪ মাস সময় লাগবে এবং প্রথম ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ এইচ১২৫-এর ডেলিভারি ২০২৬ সালে শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এইচ১২৫ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া একক ইঞ্জিন হেলিকপ্টার। বিশ্বব্যাপী এর ফ্লাইট ঘণ্টা ৩ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি। অতি গরম ও চরম পরিবেশে কাজ করতে সক্ষম এ হেলিকপ্টার অগ্নিনির্বাপণ, উদ্ধার, এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, যাত্রী পরিবহনসহ নানা ধরনের অভিযানের জন্য সক্ষম। এয়ারবাস জানিয়েছে, মাউন্ট এভারেস্টে অবতরণ করা একমাত্র হেলিকপ্টার এটি।
এয়ারবাস বর্তমানে ভারত থেকে প্রতি বছর ৭৫ কোটি ডলার বাণিজ্য করে, যা ২০২৬ সালের মধ্যে ১৫০ কোটি ডলারে উন্নীত হবে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। আরো বলা হচ্ছে, ভারতের দ্রুতবর্ধনশীল এভিয়েশন খাতে সামরিক ও বেসামরিক হেলিকপ্টারের চাহিদা বাড়ছে।
ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, মাখোঁর এ রাষ্ট্রীয় সফরে প্রতিরক্ষা খাতে কিছু সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এর একটি হলো ভারতে যুদ্ধবিমানের ইঞ্জিন তৈরিতে সহায়তা করবে ফরাসি ইঞ্জিন নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান সাফরান।
এরই মধ্যে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারীতে পরিণত হয়েছে ফ্রান্স। চার দশক ধরে যুদ্ধবিমানের জন্য প্যারিসের ওপর নির্ভর করছে দিল্লি।
আলোচনা অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে ফ্রান্সে ভারতের রাষ্ট্রদূত জাভেদ আশরাফ বলেছেন, ‘ডিজাইন, ডেভেলপমেন্ট, সার্টিফিকেশন, প্রডাকশন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে শতভাগ প্রযুক্তির স্থানান্তর করতে সম্পূর্ণভাবে ইচ্ছুক সাফরান।’










