নির্ধারিত কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার পর অফিসের ই-মেইল বা ফোন কল অগ্রাহ্য করার আইনি অধিকার পেলেন অস্ট্রেলিয়ার কর্মীরা। ব্যক্তিগত জীবনে দাপ্তরিক অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নতুন ‘রাইট টু ডিসকানেক্ট’ আইনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে রাখা হয়েছে জরিমানার মতো বিধান। তবে কিছু ক্ষেত্রে জরিমানার শিকার হতে পারেন কর্মীও। খবর রয়টার্স ও বিবিসি।
গত সোমবার কার্যকর হওয়া নতুন আইন অনুসারে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কর্মীরা কর্মঘণ্টার বাইরে নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে আসা যেকোনো ধরনের যোগাযোগে সাড়া না দিলে শাস্তি দেয়া যাবে না।
এ আইনের সমর্থকরা বলছেন, কর্মঘণ্টার পর দাপ্তরিক ই-মেইল, টেক্সট ও কল কর্মীদের ব্যক্তিগত জীবনে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে কভিড-১৯ মহামারীর সময় হোম অফিসের কারণে বাড়ি ও অফিসের মধ্যে বিভাজন অনেকটাই উঠে যায়, যা এখনো অনেক ক্ষেত্রে চালু আছে। নতুন আইন কর্মীদের বাধ্যবাধকতাহীন ব্যক্তিগত জীবন উপভোগে আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
অস্ট্রেলিয়া ইনস্টিটিউটের এক জরিপ অনুসারে, ২০২৩ সালের অস্ট্রেলিয়ার কর্মীরা গড়ে ২৮১ ঘণ্টা অতিরিক্ত কাজ করেছেন। এ শ্রমের বিপরীতে পরিশোধ না করা অর্থের পরিমাণ ৮ হাজার ৮০০ কোটি ডলার।
অবশ্য কর্মীদের জন্য এমন অধিকার নতুন কিছু নয়। এর আগে দুই ডজনের মতো দেশ এমন আইন পাস করেছে, যার বেশির ভাগ ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকার দেশ। ২০১৭ সালে প্রথমবার এ নিয়ম চালু করে ফ্রান্স। এর পরের বছর কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা রেন্টোকিলকে ৬৬ হাজার ৭০০ ডলার জরিমানা করা হয়, কারণ কোম্পানিটি একজন কর্মীকে সবসময় ফোন চালু রাখতে বাধ্য করেছিল।
নতুন এ আইন অনুসারে, প্রথমে নিয়োগকর্তা ও কর্মীরা নিজেদের মধ্যে কর্মঘণ্টা ও পরবর্তী সময়সংক্রান্ত বিরোধ মেটাতে চেষ্টা করবে। তারা সমাধান খুঁজে পেতে ব্যর্থ হলে পদক্ষেপ নেবে অস্ট্রেলিয়ার ফেয়ার ওয়ার্ক কমিশন (এফডব্লিউসি)। তখন নিয়োগকর্তাকে নির্ধারিত সময়ের পর কর্মচারীর সঙ্গে যোগাযোগ না করার নির্দেশ দিতে পারবে এফডব্লিউসি। তবে কর্মী যদি অযৌক্তিকভাবে দাপ্তরিক যোগাযোগে সাড়া না দেয়, তাকেও আদেশ দিতে পারবে কমিশন। এফডব্লিউসির আদেশ মেনে চলতে ব্যর্থ হলে অবস্থা ভেদে উভয় পক্ষের যেকোনো একটিকে জরিমানা দিতে হবে, যা কর্মীর ক্ষেত্রে ১২ হাজার ৮৯৭ ডলার ও একটি কোম্পানির জন্য ৬৩ হাজার ৬৮৭ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।










