জৈব জ্বালানির উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। এর জের ধরে দেশটিতে পাম অয়েলের চাহিদা আগের তুলনায় বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে পণ্যটির নতুন নতুন রফতানি বাজার খুঁজছে মালয়েশিয়া। সরকারি এসব উদ্যোগ দেশটির বাজারে পাম অয়েলের মূল্যবৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে বলে মনে করছেন মালয়েশিয়ার প্ল্যান্টেশন, ইন্ডাস্ট্রিজ এবং কমোডিটিজবিষয়ক ডেপুটি মিনিস্টার উইলি মনজিন। খবর স্টার অনলাইন।

তিনি বলেন, কয়েক মাস আগেও মালয়েশিয়ার বাজারে প্রতি টন অপরিশোধিত পাম অয়েলের দাম ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ রিঙ্গিতের (মালয়েশীয় মুদ্রা) মধ্যে ছিল। বর্তমানে অপরিশোধিত পাম অয়েলের দাম টনপ্রতি ২ হাজার ৮৮০ রিঙ্গিতে উঠেছে। আগে যেখানে প্রতি টন তাজা পাম ফল ২৬০ রিঙ্গিতে বিক্রি হতো, এখন পণ্যটির দাম উঠেছে টনপ্রতি ৫৪০ রিঙ্গিতে। পাম অয়েল শিল্পে এমন মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে মালয়েশিয়া সরকারের নীতি পরিবর্তন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আরো বলেন, জৈব জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে কার্যকর কিছু উদ্যোগ নিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। এর অন্যতম প্রধান কাঁচামাল পাম। তাই সরকারি উদ্যোগের পর মালয়েশিয়ায় পামের চাহিদা আগের তুলনায় বেড়েছে। যা পাম অয়েলের মূল্যবৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।

মালয়েশিয়া থেকে সাধারণত চীন, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় সবচেয়ে বেশি পাম অয়েল রফতানি হয়। তবে করোনা মহামারীর কারণে চলতি বছর দেশটি থেকে চীনে পাম অয়েল রফতানি কমেছে। রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিরোধের জের ধরে ভারতে পাম অয়েলের বাজার হারিয়েছে মালয়েশিয়া। এ কারণে পাম অয়েলের বিকল্প বাজার খুঁজছে মালয়েশিয়া সরকার। নাইজেরিয়াসহ আফ্রিকার দেশগুলোয় পাম অয়েলের রফতানি বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগও মালয়েশিয়ার বাজারে পাম অয়েলের মূল্যবৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে। আগামীতে পণ্যটির দাম আরো বাড়তে পারে।