এশিয়া অঞ্চলে জুনে সরবরাহের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমিয়ে আনতে পারে সৌদি আরব। সম্প্রতি কয়েকটি শিল্প সূত্রে এমনটা জানা যায়। গত মাসে কভিডের কারণে চীনে তেলের চাহিদা কমে আসার পর এমন সিদ্ধান্ত নেয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়। চীন বিশ্বের শীর্ষ তেল আমদানিকারক দেশ হিসেবে খ্যাত। খবর রয়টার্স।

গত মাসে রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলো ও তাদের মিত্রদের নিষেধাজ্ঞার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে তেলের স্পট প্রিমিয়াম ও মেয়াদি মূল্য রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে। রাশিয়া সম্মিলিতভাবে বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও তেলপণ্য রফতানিকারক দেশ। ফলে পশ্চিমাদের রুশ তেল পণ্যে নিষেধাজ্ঞা সরবরাহ সংকট তৈরি এবং মধ্যপ্রাচ্যের তেলের বাজারকে প্রভাবিত করে।

সম্প্রতি চীনে নতুন করে কভিড-১৯-এর সংক্রমণ বাড়ায় চলতি মাসে এশিয়ায় জ্বালানি তেলের চাহিদা কমে আসে। এছাড়া রুশ জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ ইউরোপের থেকে দিক পরিবর্তন করে চীন ও ভারতে সরবরাহ গন্তব্য স্থির করেছে। অন্যদিকে বাজার স্থিতিশীল রাখতে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া নিজেদের কৌশলগত মজুদ উন্মুক্ত করেছে।

এসব পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো জুনে এশিয়ায় সরবরাহকৃত আরব লাইট ক্রুডের অফিশিয়াল বিক্রয় দাম (ওএসপি) ৫ ডলার থেকে ৫ ডলার ৫ সেন্ট পর্যন্ত কমিয়ে আনা হবে। এর আগে এ মানের অপরিশোধিত তেলের দাম দুবাই প্লাটস ও দুবাই মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ ওমানের গড় দামের তুলনায় ৯ ডলার ৩৫ সেন্ট বেশি ছিল। সাতটি পরিশোধনাগার পর্যবেক্ষণ করে এমনটা পূর্বাভাস পাওয়া যায় বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এক সূত্র জানায়, লকডাউনের কারণে চীনা পরিশোধনাগারগুলোতে পরিশোধনের মাত্রা কমে আসা ও রফতানি কোটার স্বল্পতার দরুন চীনা শোধনাগারগুলোতে তেলের চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় তেল পণ্যের রফতানি মূল্য কমিয়ে আনা হবে। অন্য একটি সূত্র জানায়, জুনে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ৩ থেকে ৪ ডলার পর্যন্ত কমিয়ে আনা হবে। এ সময় এশিয়া অঞ্চলে পরিশোধনের হার আরো শক্তিশালী হবে বলেও মনে করে এ সূত্র।

চলতি সপ্তাহে এশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো তাদের সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেছে। রুশ জ্বালানির সরবরাহ সংকট মোকাবেলায় ইউরোপে তেলের উচ্চ চাহিদা ও রফতানির ফলে এমনটা দেখা গিয়েছে।

এ সময় সৌদি আরবের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ বাড়তে পারে যদি ওপেক প্লাস তাদের বিদ্যমান নীতিতে অটল থাকে এবং জুনে উত্তোলনের পরিমাণ কিছুটা বাড়ায়। ৫ মে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে এমনটা সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্য থেকে ছয়টি সূত্র।