চীনে চলতি মাসে তাপীয় কয়লা আমদানি বাড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দেশটিতে কয়লার স্থানীয় সরবরাহ কম। এছাড়া বিশ্ববাজারেও দাম স্থিতিশীল রয়েছে। এ কারণেই আমদানি বাড়াচ্ছে চীনের সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো। খবর রয়টার্স।
চলতি মাসে চীনের বন্দরগুলো দিয়ে ২ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার টন তাপীয় কয়লা আমদানি হতে পারে বলে জানিয়েছে বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার। জুলাইয়ে আমদানি হয়েছিল ২ কোটি ৮৮ লাখ টন।
চীন বিশ্বের শীর্ষ কয়লা আমদানিকারক, উত্তোলক ও ব্যবহারকারী। জলবিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে চীন। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তাপীয় কয়লার চাহিদা বাড়ছে। এ কারণেই চলতি বছরের শুরু থেকেই দেশটি তাপীয় কয়লার আমদানি বাড়াচ্ছে।
মার্চের পর থেকে প্রতি মাসেই দেশটি প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ টনের বেশি তাপীয় কয়লা আমদানি করে। কয়লাচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকেই বাড়তি চাহিদা তৈরি হচ্ছে।
চীন জুলাইয়ে ৩৭ কোটি ৭৫ লাখ ৪০ হাজার টন কয়লা উত্তোলন করে। জুনের তুলনায় উত্তোলন ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। কয়লা খনিগুলোয় কঠোর নিরাপত্তা নজরদারি আরোপ করায় উত্তোলনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
এদিকে উত্তোলন কমে যাওয়ায় চীনের বাজারে তাপীয় কয়লার দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে। বাজার পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান স্টিলহোমের হিসাব অনুযায়ী, কিনহুয়াংডো বন্দরে তাপীয় কয়লার বাজার আদর্শ মূল্য দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি ৮৩৫ ইউয়ান।
অন্যদিকে চীন চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে আমদানি করেছে ২১ কোটি ১৮ লাখ টন কয়লা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানি ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় সমুদ্রপথে চীনে সবচেয়ে বেশি কয়লা সরবরাহ করেছে ইন্দোনেশিয়া। সরবরাহের দিক থেকে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছে রাশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া।
সংস্থাটি জানায়, বিশ্বজুড়ে কয়লাসহ অপরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার তোড়জোড় চলছে। জলবায়ু পরিবর্তন রোধে কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো। এর পরিবর্তে পরিচ্ছন্ন সবুজ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়াসও চলছে। কিন্তু এর পরও কয়লার ওপর থেকে নির্ভরতা কমাতে পারছে না বিশ্ব। উল্টো অনেক দেশ আরো বেশি পরিমাণে কয়লা ব্যবহারে ঝুঁকছে। আর এ তালিকায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছে চীন।
২০২২ সালে কয়লার বৈশ্বিক ব্যবহার বেড়ে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। চলতি বছরও ব্যবহার রেকর্ড উচ্চতা অবস্থান করবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোয় ব্যবহার কমলেও এশিয়ায় জ্বালানির ব্যবহার বাড়বে লক্ষণীয় মাত্রায়। বিশেষ করে চীনে ব্যবহারের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি বাড়ছে।










