শ্রীলংকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার ১০০ বেসিস পযেন্টে কমিয়েছে। ব্যাংকটির উচ্চ পর্যায়ের সভায় গতকাল এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর মূল উদ্দেশ্য দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে আরো গতিশীল করা। এর আগে আগস্টে অনুষ্ঠিত নীতিনির্ধারণী এক বৈঠকে সুদহার অপরিবর্তিত রাখার ঘোষণা দিয়েছিল শ্রীলংকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক। খবর নিক্কেই এশিয়া। 

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) শ্রীলংকাকে ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার ঋণ দেয়ার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়। এক্ষেত্রে বেঁধে দেয়া হয় বেশকিছু শর্ত। এসব শর্ত পূরণের মাধ্যমে ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে রাজস্ব বৃদ্ধি ও ব্যালান্স শিট সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। বিষয়টিও নীতি সুদহার কমানোর পেছনে বড় কারণ।

সেন্ট্রাল ব্যাংক অব শ্রীলংকা (সিবিএসএল) গতকাল এক বিবৃতিতে জানায়, নীতি সুদহার করিডরের ঊর্ধ্বসীমা স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) সুদহার ১০০ বেসিস পয়েন্টে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, নীতি সুদহার করিডরের নিম্নসীমা স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) সুদহারও ১০০ বেসিস পয়েন্টে বাড়িয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে। 

বিবৃতিতে বলা হয়, ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সেটির ভবিষ্যৎ গতিপথ বিশ্লেষণ করে খুব সতর্কতার সঙ্গেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটিতে মূল্যস্ফীতির হার লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে। এমন বাস্তবতায় নীতি সুদহার কমানোর বিষয়টি ছিল অনেকটাই প্রত্যাশিত।

ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকটের জেরে গত বছর প্রায় দেউলিয়া হতে বসে দ্বীপরাষ্ট্রটি। সাত দশকের মধ্যে দেশটি আর কখনো এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়েনি। ওই বছর মূল্যস্ফীতির হার আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। তলানিতে ঠেকে বৈদেশিক রিজার্ভ। এ সময় জরুরি নিত্যপণ্য আমদানিতেই হিমশিম খাচ্ছিল দেশটি। 

এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার মোট ১০ দশমিক ৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ায়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উদ্যোগ নেয়া হয় বৈদেশিক রিজার্ভ বাড়ানোরও। দেশটির অর্থনীতি সংকটাপন্ন অবস্থা থেকে অনেকটাই ঘুরে দাঁড়ানোয় এ বছরের জুন থেকে সুদহার কমাতে শুরু করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।