দেশের বাজারে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভারত থেকে আলু আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ১২ জন আমদানিকারককে এ অনুমোদন দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে এলসি খোলাসহ অন্যান্য প্রস্তুতি নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আজ অথবা আগামী সপ্তাহের প্রথম দিন থেকে বন্দর দিয়ে আলুবাহী ট্রাক প্রবেশ করতে পারে। প্রাথমিকভাবে ১২ হাজার টন আলু আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আমদানিকারকদের প্রত্যাশা, এতে দেশের বাজারে আলুর দাম পুনরায় কেজিপ্রতি ৩০ টাকায় নামতে পারে।

সরকারিভাবে দাম বেঁধে দেয়া ও প্রশাসনিক নানা পদক্ষেপের পরেও দেশে ক্রমেই অস্থিতিশীল হয়ে উঠছিল আলুর বাজার। সরকারিভাবে প্রতি কেজি ৩৬ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হলেও বাজারে ৫০ টাকার নিচে কোনো আলু পাচ্ছিলেন না ক্রেতারা। এ অবস্থায় বাজার নিয়ন্ত্রণে আলু আমদানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। বর্তমানে হিলি বাজারে কাটিনাল জাতের আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। আর গুটি আলু কেজিপ্রতি ৬০ টাকায়। এছাড়া ভর্তার জন্য জাম আলু বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘‌দেশে আলুর বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় আমরা আমদানির অনুমতি দেয়ার কথা জানিয়ে আসছিলাম। ভারতে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৩-১৫ টাকা দরে। আলু আমদানি করা গেলে দেশের বাজারে সর্বোচ্চ ৩০ টাকার মধ্যে আলুর দাম নেমে আসবে। বেশ কিছুদিন পরে হলেও সরকার আলু আমদানির অনুমতি দেয়ার সিন্ধান্ত নিয়েছে। এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই।’

এ ব্যবসায়ী বলেন, ‘‌আমরা এরই মধ্যে হিলি স্থলবন্দরের ১০-১৫ জন আমদানিকারক ২০ হাজার টন আলু আমদানির জন্য আমদানির অনুমতি চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন দিয়েছিলাম। গতকাল রাতেই বন্দরের ১২ জন আমদানিকারক ১২ হাজার টন আলু আমদানির অনুমতি পেয়েছি। এর মধ্যে আমি নিজে পেয়েছি আড়াই হাজার টন। অনুমতিপত্র হাতে পাওয়ার পর আলু আমদানির জন্য এলসি খুলেছি। ভারতীয় রফতানিকারকদের সে এলসির কপি দিয়েছি, তারাও আলু রফতানির জন্য আলু ক্রয় করে লোডিং শুরু করেছেন বলে আমাকে জানিয়েছেন। আশা করছি বৃহস্পতিবার ভারত থেকে আলু আমদানি শুরু হবে। ভারত থেকে প্রতি কেজি আলু পরিবহন খরচসহ সাড়ে ১৬ রুপি দরে ক্রয় করতে হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশে প্রতি কেজিতে শুল্ক দিতে হবে সাড়ে ৩ টাকার মতো। সব মিলিয়ে আমাদের খরচ পড়বে ২৭-২৮ টাকার মতো। তাই আশা করছি আমরা আমদানীকৃত আলু ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে পারব।’‌