বিশ্বের শীর্ষ চিনি উৎপাদক ভারত এ মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ চিনি রফতানি করতে চায়। ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ মৌসুমে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৫০ লাখ টন চিনি রফতানির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি, যা ভোগ্যপণ্যটির আগের রফতানির রেকর্ড ভাঙবে বলে প্রত্যাশা খাতসংশ্লিষ্টদের। খবর বিজনেস স্ট্যাডার্ড।
তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এরই মধ্যে ভারতের সুগার মিল থেকে ২০ লাখ টন চিনি রফতানির চুক্তি সম্পন্ন করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় এ মৌসুমে গত বছরের তুলনায় রফতানি এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়ে কমপক্ষে ৫০ লাখ টনে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
দিল্লিভিত্তিক একজন ব্যবসায়ীর মতে, চলতি বাজার চাহিদা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে এ মৌসুমে কমপক্ষে ৫০ লাখ টন চিনি রফতানি করা সম্ভব হবে বলে তাদের বিশ্বাস।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, যদি এ মৌসুমে ৫০ লাখ টন রফতানির এ লক্ষ্য পূরণ করা যায়, তাহলে এটি তার আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাবে। বাণিজ্য ও খাতসংশ্লিষ্ট শিল্পের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০০৭-০৮ মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ চিনি রফতানি করে দেশটি। সে সময় আন্তর্জাতিক বাজারে ৪৯ লাখ ৬০ হাজার টন চিনি রফতানি করা হয়।
এমইআইআর কমোডিটিস ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহিল শায়িখ বলেন, চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ মৌসুমের শুরু থেকে রফতানি গতি পেয়েছে।
এদিকে চলতি মৌসুমে ভারত চিনি রফতানি বাড়ালে সেটি ব্রাজিল, থাইল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলোর আন্তর্জাতিক বাজারে হিস্যা কমিয়ে দেবে। পাশাপাশি নিউইয়র্ক ও লন্ডনের বেঞ্চমার্কে ভোগ্যপণ্যটির দাম কমিয়ে আনতে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। রফতানি বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) সংস্থার সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তি আরো তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
এরই মধ্যে চিনি রফতানি বাড়াতে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া ভর্তুকিকে অন্যায্য বলে ডব্লিউটিওর কাছে নালিশ করেছে ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া ও গুয়াতেমালা। চিনি উৎপাদনে ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ব্রাজিল বলছে, রফতানি ভারতের অন্যায্য ভর্তুকিতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হারাতে সহায়তা করবে।
কয়েক বছর ধরে ভারতের বাজারে চিনির মজুদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদ্বৃত্ত এসব চিনি রফতানি করতে ২০১৯-২০ মৌসুমে ভারত সরকার প্রতি টন চিনি রফতানিতে ১০ হাজার ৪৪৮ রুপি ভর্তুকি দিচ্ছে, যা মৌসুমের শুরু থেকে ভোগ্যপণ্যটির রফতানি বাড়াতে দেশটির রফতানিকারকদের উত্সাহিত করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভারতের তিন ব্যবসায়ী বলেন, ফ্রি অন বোর্ডের (এফওবি) ভিত্তিতে প্রতি টন অপরিশোধিত চিনির গড় মূল্য ৩০০ এবং পরিশোধিত চিনির গড় মূল্য ৩৩০ ডলার নির্ধারণ করে রফতানি চুক্তি করা হয়েছে।
এ মৌসুমে তিন মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহের লক্ষ্যে এরই মধ্যে ২০ লাখ টন চিনির রফতানি চুক্তি করে ফেললেও গত মৌসুমের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল মাত্র ৮ লাখ ৫০ হাজার টন।
এদিকে আগামী বছরে চিনি রফতানি বাড়ালেও এ বছর দেশটির উৎপাদন বড় আকারে কমেছে। ইন্ডিয়ান









