শহরের মানুষের আক্ষেপ গ্রাম আর আগের মতো নেই, সেখান থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পরিবেশবান্ধব স্থাপনা। শহরের মতো ইট-কাঠের ঘেরাটোপে আটকে পড়ছে গ্রাম। অবশ্য বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে বিকল্পও ভেবে নিচ্ছেন অনেকে। তানজানিয়ায় কিবাহাতে যেমন আর্থ প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে গড়ে উঠছে ‘হোপ ভিলেজ’ বা আশাবাদের গ্রাম। দাতব্য সংস্থা ওয়ান হার্টের সঙ্গে মিলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে আর্কিটেকচার ফার্ম হাসেল ও ক্লার্ক হপকিন্স ক্লার্ক। মূলত শিশুদের আশ্রয় ও তাদের মাঝে শিক্ষার প্রসারের জন্য গ্রামটি তৈরি হচ্ছে। এখানে ৪৮০ শিশু পড়াশোনার সুযোগ পাবে। এছাড়া নাজুক পরিস্থিতিতে থাকা ৩-১৮ বছর বয়সী মেয়েদের জন্য আবাসন ও পেশাদার প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকছে। গ্রামে থাকছে প্রায় ৫০টি ভবন। এখানে কৃষি, পশুপালন, খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য আলাদা আলাদা পরিসর থাকবে। হোপ ভিলেজ মূলত স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত মাটি ও থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হবে। এ প্রকল্পের মূল আকর্ষণ একটি কমিউনিটি সেন্টার। কমিউনিটি সেন্টারের দেয়ালের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে বাতাস চলাচল ও প্রাকৃতিক আলো প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে। এর ছাদটির ভিত্তি একটি ধাতব কাঠামো, যা স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত কাঠ ও অন্যান্য উপাদান দিয়ে তৈরি হবে। হোপ ভিলেজ প্রকল্পে ১ লাখ ৬০ হাজার ইউরো মূল্যের থ্রিডি প্রিন্টিং ব্যবহার করা হবে। গ্রামটির নির্মাণ ২০২৫ সালে শুরু হবে। এজন্য স্থানীয়দের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী নকশা ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে মাটি দিয়ে থ্রিডি প্রিন্টিং আজকাল কংক্রিটের টেকসই বিকল্প হয়ে উঠছে। ২০১৮ সাল থেকে এ পদ্ধতি ব্যবহার হয়ে আসছে, যদিও স্থায়িত্বের বিষয়টিকে এখনো চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। তার পরও তানজানিয়ার এ উদ্যোগ লক্ষ্যের দিক থেকে একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে। যার মূল শক্তি উন্নয়ন, শিক্ষা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা বৃদ্ধি। খবর ও ছবি সিএনএন