চলতি বছরের অক্টোবরে ভারতে চা উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার কেজিতে। ১ ডিসেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির চা বোর্ড।
চা বোর্ড সংশ্লিষ্টরা জানান, ভারতে শীর্ষ চা উৎপাদন অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি আসাম। অক্টোবরে এ অঞ্চলে উৎপাদন ধসের মুখে পড়ে, যা জাতীয় উৎপাদনকে প্রভাবিত করে।
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রদেশ আসাম থেকে মোট চা উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি আসে। চা বোর্ড বলছে, অক্টোবরে প্রদেশটিতে ৮ কোটি ৯৬ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ শতাংশ কম।
চা উৎপাদনে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ ভারত। জুন-অক্টোবর পর্যন্ত দেশটিতে স্বাভাবিকভাবেই চা পাতা উত্তোলন বৃদ্ধি পায়। কিন্তু এ বছরের অক্টোবরে তা কমে গিয়েছে। আর এতে করে বৃদ্ধি পেয়েছে পণ্যটির গড় দাম। টি বোর্ড জানায়, অক্টোবরে প্রতি কেজি চা ১৮৫ দশমিক ১৬ রুপিতে বিক্রি হয়, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
এদিকে চায়ের রফতানি বৃদ্ধির নতুন এক সুযোগ তৈরি হয়েছে ভারতের জন্য। এটি কাজে লাগিয়ে চলতি বছর প্রায় ২৩ কোটি কেজি চা রফতানি করতে সমর্থ হবে বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশন (আইটিএ)। পাশাপাশি ২০২৫ সালের মধ্যে বার্ষিক চা রফতানি প্রায় ৩৫ কোটি কেজিতে পৌঁছবে বলেও আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
চা রফতানির ক্ষেত্রে ভারতের অন্যতম প্রতিযোগী দেশ শ্রীলংকা। তবে বিদ্যমান অর্থনৈতিক টানাপড়েন আর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দেশটির চা উৎপাদন কার্যক্রম বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন। স্বাভাবিকভাবেই চায়ের উৎপাদন কমেছে দেশটিতে। এ অবস্থায় বৈশ্বিক বাজার চাহিদার বিপরীতে ভারতের সামনে চায়ের রফতানি বৃদ্ধির সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই গত বছরের ১৯ কোটি ৬০ লাখ কেজি ছাড়িয়ে চলতি বছর তা ২৩ কোটি কেজিতে উত্তীর্ণ হবে বলে মনে করছে আইটিএ।
সংস্থাটির চেয়ারপারসন নয়নতারা পাল চৌধুরী বলেন, আশার কথা জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত চা রফতানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি বছর ইরান, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আমরা চায়ের রফতানি বাড়াতে সমর্থ হয়েছি।










