দেশের বন্ধ ও রুগ্ণ শিল্প-কারখানা পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের অংশ হিসেবে বেসরকারি খাতের বন্ধ পাটকল পুনরুজ্জীবনে কাজ শুরু করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। নতুন কারখানা স্থাপনের পরিবর্তে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পাটকলের বিদ্যমান অবকাঠামো ও উৎপাদন সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এসব কারখানা সচল করার কৌশল নিয়েছে শিল্প গ্রুপটি।
আবুল খায়ের গ্রুপের উদ্যোগে এরই মধ্যে ফরিদপুরের রাজ্জাক জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, ফরিদপুর জুট মিল ও দামাশি জুট মিল, খুলনার আহিয়ান জুট মিল, কুষ্টিয়ার নাসির জুট মিল ও মাগুরার এ আর জুট মিলে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এসব কারখানায় উৎপাদিত পাটের সুতা তুরস্ক, চীনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি হচ্ছে বলে জানিয়েছে গ্রুপটি।
পুনরুজ্জীবিত এসব কারখানা থেকে বছরে প্রায় ৮০ হাজার টন পাটের সুতা ও পাটজাত পণ্য রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে আবুল খায়ের গ্রুপ। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার রফতানি আয়ের লক্ষ্য নিয়ে কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া হচ্ছে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
শুধু বেসরকারি খাতের পাটকল নয়, সরকারি খাতের আরো তিন-চারটি বন্ধ পাটকল পুনরায় চালুর উদ্যোগও নিয়েছে আবুল খায়ের গ্রুপ। এসব কারখানা পুনরায় উৎপাদনে ফেরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আবুল খায়ের গ্রুপের হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল শেখ শাবাব আহমেদ বলেন, ‘পাটপণ্যের ব্যবসা মূলধননির্ভর। দেশে বেসরকারি খাতের অনেক পাটকল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। তাই নতুন কারখানা স্থাপনের পরিবর্তে আমরা বিদ্যমান বন্ধ কারখানার অবকাঠামো ও সক্ষমতাকে কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মাধ্যমে একদিকে বন্ধ শিল্প পুনরায় উৎপাদনে ফিরছে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থান ও রফতানির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।’










