ভারতীয় কারখানাগুলোয় চলতি মৌসুমের প্রথম দুই মাসে চিনি উৎপাদন কমেছে। গত ১ অক্টোবর শুরু হওয়া ভোগ্যপণ্যটির নতুন বিপণন মৌসুমে নভেম্বর পর্যন্ত ৪৩ লাখ ২০ হাজার টন চিনি উৎপাদন হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন কমেছে ১০ দশমিক ৭ শতাংশ। দেশটির শীর্ষস্থানীয় একটি ব্যবসায়িক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। মূলত প্রধান চিনি উৎপাদক দুটি রাজ্যে বিলম্বে কারখানা কার্যক্রম শুরু হওয়ায় পণ্যটির মোট উৎপাদন কমেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম চিনি উৎপাদক। তাই উৎপাদন কমে গেলে বিশ্ববাজারে রফতানির পরিমাণও কমিয়ে দেবে দেশটি। এমনিতেই সরবরাহ স্বল্পতার কারণে বর্তমানে চিনির দাম গত কয়েক বছরের সর্বোচ্চে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে ভারতে উৎপাদন কমার খবর ভোগ্যপণ্যটির বাজারকে আরো ঊর্ধ্বমুখী করে তুলবে।
ন্যাশনাল ফেডারেশন অব কো-অপারেটিভ সুগার ফ্যাক্টরিসের (এনএফসিএসএফ) সভাপতি জয়প্রকাশ দান্দেগাঁওকার বলেছেন, ‘দাম নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে বিরোধের কারণে পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য মহারাষ্ট্র ও পার্শ্ববর্তী কর্ণাটক রাজ্যে আখ মাড়াই কার্যক্রম ১ নভেম্বর পর্যন্ত বিলম্বিত হয়েছে। তবে উত্তর প্রদেশের কারখানাগুলোয় চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করেছে।’
অন্যদিকে ২০২৩-২৪ বিপণনবর্ষে চিনি উৎপাদনের পরিমাণ ৮ শতাংশ কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে ইন্ডিয়া সুগার মিলস অ্যাসোসিয়েশন (আইএসএমএ)। চলতি বিপণনবর্ষে ভোগ্যপণ্যটির সম্ভাব্য উৎপাদন দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩ কোটি ৩৭ লাখ টনে। উৎপাদন কমার কারণ হিসেবে দেশটির প্রধান আখ উৎপাদনকারী রাজ্যগুলোয় কম বৃষ্টিপাতকে দায়ী করেছে সংগঠনটি।
আইএসএমএর প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছর (২০২২-২৩) ৩ কোটি ৬৬ লাখ টন চিনি উৎপাদন করেছিল ভারত। এ হিসাবে চলতি মৌসুমে পণ্যটির উৎপাদন ২৯ লাখ টন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।










