অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে হাইড্রোজেন সরবরাহ চেইন তৈরির ঘোষণা দিয়েছে জাপান। দেশ দুটির সঙ্গে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। মূলত দ্রুতবর্ধনশীল এ অঞ্চলের কার্বন নিঃসরণ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়ে বৈঠকটিতে আলোচনা হয়। এশিয়া জিরো ইমিশন কমিউনিটি ফ্রেমওয়ার্ক শীর্ষক বৈঠকটির আয়োজন করেছে জাপান। খবর কিয়োদো।

বৈঠকে ভিডিও বার্তা পাঠান জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা। তিনি বলেন, ‘‌সামনের দিনগুলোয় হাইড্রোজেন জ্বালানির গুরুত্বপূর্ণ ও বিকল্প উৎস হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে এ অঞ্চলে যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ খুবই সাধারণ বিষয়। আমাদের উচিত এশিয়ার জন্য যতগুলো সম্ভব জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজে বের করা। হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়া দুটি ভালো বিকল্প হতে পারে।’ 

উল্লেখ্য, জাপান বেশকিছু ডিকার্বনাইজেশন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। যেমন তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনে হাইড্রোজেন ও অ্যামোনিয়ার ব্যবহার। সেই সঙ্গে নিঃসৃত কার্বন-ডাই-অক্সাইড আটকে ফেলা। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয় তা থেকেই মূলত এসব পদক্ষেপের বিষয়ে অবস্থান জোরালো করে জাপান। কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি স্থিতিশীল জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায় দেশটি। 

দেশটির অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং শিল্পমন্ত্রী ইয়াশুতোশি নিশিমুরা বলেন, ‘‌জাপানের হাইড্রোজেন প্রযুক্তি এবং বহু বছরের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে আমরা ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে হাইড্রোজেনের সরবরাহ চেইনের প্রসার ঘটাতে চাই। বৈঠকে এসব বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।’ 

উল্লেখ্য, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া ছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যে দেশগুলো বৈঠকে অংশ নেয় সেগুলো হলো ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় কার্বন নিঃসরণকারী দেশ হিসেবে পরিচিত চীন এ উদ্যোগের সঙ্গে সংযুক্ত হয়নি। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এ মুহূর্তে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কেন্দ্রবিন্দু। একই সঙ্গে নিঃসরণও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। সে কারণে এ অঞ্চলে ডিকার্বনাইজেশন প্রক্রিয়াও ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন। এ অঞ্চলে কার্বন নিঃসরণ কমানো গেলে তা বৈশ্বিক গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ মোকাবেলা প্রক্রিয়ার জন্য পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।