পরীক্ষাসংক্রান্ত মানসিক চাপ ও উদ্বেগ মোকাবেলা এবং একাডেমিক ফলাফল উন্নত করতে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ‘বিয়ন্ড এক্সাম অ্যানজাইটি সিজন-৩’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সেলিং অ্যান্ড ওয়েলবিইং সেন্টারের উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে পরীক্ষাভীতি নিয়ন্ত্রণ, মনোযোগ বাড়ানো এবং পড়াশোনার চাপের মধ্যেও মানসিক সুস্থতা ধরে রাখার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আলোচনা ও ব্যবহারিক অনুশীলন করা হয়।

কর্মশালায় একজন মনোবিজ্ঞানী বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় অনেক সময় শেখার চেয়ে পরীক্ষাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। এতে শিক্ষার্থীরা বিষয়বস্তু গভীরভাবে বোঝার পরিবর্তে পরীক্ষাভিত্তিক ও বাছাই করা প্রস্তুতির দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন। ফলে অনেকের মধ্যে নিজের সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা, অপ্রতুলতার অনুভূতি ও আত্মসন্দেহ তৈরি হতে পারে।

আয়োজকরা জানান, জীবনের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট মাত্রার চাপ থাকা স্বাভাবিক। তাই চাপকে শুধু উদ্বেগ হিসেবে না দেখে এর ইতিবাচক দিক কাজে লাগিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের নিজেদের জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রাণরসায়ন ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের অণুজীববিজ্ঞানী ও জীবপ্রযুক্তিবিদ অধ্যাপক আবদুল খালেক স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও শরীরের জৈবিক ঘড়ির প্রতি গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন। তিনি জানান, জৈবিক ঘড়ির স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটলে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এজন্য পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম পুষ্টি, পর্যাপ্ত পানি পান এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিজেদের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন হয়ে সুস্থ জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

কর্মশালায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির এমবিএ ও ইএমবিএ কার্যক্রমের অধ্যাপক ও পরিচালক ড. নাজলি সিদ্দিকী বলেন, পরীক্ষাকে ঘিরে উদ্বেগ থাকা স্বাভাবিক। তবে এই উদ্বেগকে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ন্ত্রণ করতে দেয়া উচিত নয়। আগাম প্রস্তুতি, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং নিজের সক্ষমতার ওপর ইতিবাচক বিশ্বাস থাকলে শিক্ষার্থীরা আরো আত্মবিশ্বাস ও লক্ষ্যনিষ্ঠতার সঙ্গে পরীক্ষা ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারেন।

কর্মশালায় বিভিন্ন অংশগ্রহণমূলক আলোচনা ও ব্যবহারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষাসংক্রান্ত মানসিক চাপের কারণ চিহ্নিত করার কৌশল শেখেন। পাশাপাশি উদ্বেগজনক চিন্তা ও আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং আরো কার্যকরভাবে পড়াশোনা ও পরিস্থিতি মোকাবেলার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেন।

—বিজ্ঞপ্তি