আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। শীর্ষ আমদানিকারক দেশ চীনে চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনায় পণ্যটির বাজার ঊর্ধ্বমুখী। খবর রয়টার্স।
বিশ্লেষকরা বলছেন, করোনা মহামারী, আবাসন খাতে সংকট ও সর্বোপরি বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে চীনের অর্থনীতি টালমাটাল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির সরকার মুদ্রানীতি কিছুটা শিথিল করেছে, যা জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে সহায়তা করছে।
সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারসে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ১৭ সেন্ট বা দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৯১ ডলার ৮০ সেন্টে। এর আগের সপ্তাহের বাজার আদর্শটির দাম প্রায় ৬ দশমিক ৪ শতাংশ কমে গিয়েছিল।
অন্যদিকে নিউইয়র্ক মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে (নিমেক্স) মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৬ সেন্ট বা দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৮৫ ডলার ৬৭ সেন্টে। গত সপ্তাহে বাজার আদর্শটির দাম ৭ দশমিক ৬ শতাংশ কমে গিয়েছিল।
এদিকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়েছে রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেক। এপ্রিলের পর থেকে এ নিয়ে চারবার পূর্বাভাস কমানো হলো। পাশাপাশি আগামী বছরের চাহিদা প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসও কমানো হয়েছে।
কারণ হিসেবে জোটটি বলছে, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার বাড়াচ্ছে। কঠোর মুদ্রাসংকোচন নীতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার দিকে ঝুঁকছে। এতে জ্বালানিটির ব্যবহার ক্রমেই নিম্নমুখী হচ্ছে। মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে ওপেক জানায়, চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা ২ দশমিক ৭ শতাংশ করে বাড়বে। দৈনিক চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াবে ২৬ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে। এর আগের পূর্বাভাসের তুলনায় চাহিদা দৈনিক ৪ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল কমানো হয়েছে। আগামী বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা দৈনিক ২৩ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল করে বাড়বে, যা আগের পূর্বাভাসের তুলনায় দৈনিক ৩ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল কম। যদিও ওপেকের প্রত্যাশা আগামী বছর চাহিদা মহামারীপূর্ব অবস্থাকে ছাড়িয়ে যাবে।
ওপেকের প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব অর্থনীতি ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে। অব্যাহত বাড়ছে চ্যালেঞ্জ। ঊর্ধ্বমুখী মূল্যস্ফীতির মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মুদ্রানীতি কঠোর করছে। চলমান সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি অনেক অর্থনীতি ঋণের জালে আটকা পড়ছে। এদিকে নিম্নমুখী চাহিদার অজুহাতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বৃদ্ধির হার কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেকের মিত্র জোট ওপেক প্লাস। ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ মাত্রায় উত্তোলন কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে জোটটি।










