চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) গাড়ি বিক্রির সংখ্যায় জাপানের দুই শীর্ষ কোম্পানি হোন্ডা মোটর ও নিশান মোটরকে ছাড়িয়ে গেছে চীনের বিওয়াইডি। এর মাধ্যমে বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম অটোমেকারের স্থান দখল করে নিল সাশ্রয়ী বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। গবেষণা সংস্থা মার্কলাইনসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।

এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় বিওয়াইডির বিক্রি বেড়েছে ৪০ শতাংশ, এর পরিমাণ ৯ লাখ ৮০ হাজার ইউনিট। অন্যদিকে একই সময়ে টয়োটা মোটর ও ফক্সওয়াগন মোটরের মতো বেশির ভাগ শীর্ষ অটোমেকার বিক্রিতে পতন দেখেছে। বিওয়াইডির বিক্রি প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে আন্তর্জাতিক বাজার। এ সময় আগের বছরের তুলনায় তিন গুণ বিক্রি বেড়ে ১ লাখ ৫ হাজার ইউনিটে দাঁড়ায়।

২০২৩ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী সাত লাখ গাড়ি বিক্রি করে শীর্ষ ১০ অটোমেকারের একদম নিচের অবস্থানে ছিল চীনা জায়ান্টটি। ওই সময় নিশান ও সুজুকিকে বিক্রির সংখ্যায় ছাড়িয়ে গেলেও এবার হোন্ডার চেয়ে এগিয়ে গেল।

এখন বিক্রির হিসাবে বিওয়াইডির সামনে থাকা একমাত্র জাপানি কোম্পানি হলো টয়োটা। কোম্পানিটি এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ২৬ লাখ ৩০ হাজার গাড়ি বিক্রি করে বিশ্বব্যাপী শীর্ষ স্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক বাজারে ইভি বা হাইব্রিড ধাঁচের গাড়িকে নতুন প্রবণতা হিসেবে ধরা হলেও এক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে আছে জাপানের নামি কোম্পানিগুলো। গাড়ি শিল্পের এ বাঁকবদলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গত কয়েক মাসে একাধিক জাপানি কোম্পানি যৌথ প্লাটফর্মের ঘোষণা দিয়েছে। যেখানে একগুচ্ছ কোম্পানি প্রযুক্তির বিকাশে বিনিয়োগ করবে এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করবে তারা।

এদিকে জুনে শেষ হওয়া প্রান্তিকে বিক্রির তালিকায় এখনো এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে ‘বিগ থ্রি’ হিসেবে পরিচিতি জেনারেল মোটরস, ফোর্ড মোটর ও স্টেলান্টিস। এর মধ্যে ফোর্ডকে প্রায় ছুঁয়ে ফেলেছে বিওয়াইডি।

প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বব্যাপী বিক্রির নিরিখে বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকের শীর্ষ ২০ ব্র্যান্ডের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে দুই চীনা কোম্পানি গিলি ও চেরি অটোমোবাইল।

সাশ্রয়ী মূল্যের জন্য চীনে বিওয়াইডি শীর্ষ ইভি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এ অটোমেকার নিজ দেশে গত জুনে ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় ৩৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

একই সময়ে জাপানি জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর গাড়ি নির্মাতাদের বিক্রি কমেছে। চীনে ২০২৩ সালের একই সময়ের তুলনায় জুনে হোন্ডা ৪০ শতাংশ পতন দেখেছে এবং উৎপাদনক্ষমতা ৩০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা করেছে। এমনকি জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ বাজার হিস্যা থাকলেও থাইল্যান্ডে উৎপাদনে কাটছাঁট এনেছে হোন্ডা এবং সুজুকি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। 

চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) বিওয়াইডি ২৭ লাখ ৯০ হাজার গাড়ি রফতানি করেছে চীনে, যা একই সময়ে জাপানের রফতানির চেয়ে ৭ লাখ ৮০ ইউনিট বেশি। এ সময় বিদেশের মাটিতে প্রথম কারখানা হিসেবে থাইল্যান্ডে পুরোদমে উৎপাদন শুরু করেছে তারা। এছাড়া পরিকল্পনায় রয়েছে হাঙ্গেরি, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর কারখানা।

একাধিক অঞ্চলে নতুন শুল্ক আরোপের কারণে সামনে প্রভাবিত হতে পারে বিওয়াইডিসহ চীনা কোম্পানিগুলোর ব্যবসা। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র শতভাগ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৩৮ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করছে। এছাড়া এ সপ্তাহে শতভাগ  শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতেই চীনের কোম্পানিগুলো নতুন অঞ্চলে বাজার সম্প্রসারণ ও চীনের বাইরে কারখানা খোলায় মনোযোগ দিয়েছে।