চলতি বছর শেষে এশিয়ায় তাপীয় কয়লার বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধি গত বছরের তুলনায় ১৭ শতাংশ বাড়তে পারে। এক্ষেত্রে বড় চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে চীনের ঊর্ধ্বমুখী মজুদ। পাশাপাশি বছরের আট মাসে ভিয়েতনামে দ্বিগুণেরও বেশি আমদানিও বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধিতে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ কয়লা রফতানিকারক। দেশটির সরকারি এক প্রতিবেদনে দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছর তাপীয় কয়লার বৈশ্বিক আমদানি ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে যেতে পারে। ফলে মজুদেও কিছুটা ভারসাম্য আসতে পারে। তবে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক আমদানি ১ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়তে পারে।

প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কবল থেকে কয়লার সরবরাহ চেইনে মুক্ত রাখতে চীন অস্বাভাবিকভাবে জ্বালানিটির মজুদ বাড়িয়েছে। কয়েক বছরে কয়লার মজুদ তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। কার্বন নিঃসরণ রোধে কয়লাচালিত বিদ্যুৎ উৎপাদন কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছিল চীন। এর পরও চলতি বছর উৎপাদন লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে। চলতি বছর দেশটির তাপীয় কয়লা আমদানি দাঁড়াতে পারে ৩০ কোটি ২০ লাখ টনে। তবে আগামী বছর আমদানি কমে ২২ কোটি ১০ লাখ টনে নামতে পারে। ২০২৫ সালে আমদানির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২৩ কোটি ১০ লাখ টনে।

এদিকে চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ান তাপীয় কয়লার রফতানি চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। জানুয়ারি-জুন পর্যন্ত দেশটি চীনে অব্যাহত রফতানি বাড়িয়েছে। এর মধ্যে জুনে রেকর্ড রফতানি করা হয়েছিল। কারণ ওই সময় চীনে জ্বালানিটির চাহিদা ছিল আকাশচুম্বী। অনুকূল আবহাওয়া এবং বেশকিছু খনিতে উত্তোলন বাড়ায় চলতি বছরের তুলনায় আগামী বছর রফতানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

সরকারি পূর্বাভাস অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া চলতি বছর ১৮ কোটি ২০ লাখ টন তাপীয় কয়লা রফতানি করতে পারে। আগামী বছর রফতানির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ২০ কোটি ৩০ লাখ টনে।

অনুকূল আবহাওয়া ও স্থানীয় পর্যায়ে উত্তোলন বাড়ায় চলতি বছর ভারতে সমুদ্রপথে তাপীয় কয়লা আমদানি কমাতে সক্ষম হয়েছে। বছর শেষে আমদানির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১৫ কোটি টনে। তবে আগামী বছর তা বেড়ে ১৮ কোটি ৬০ লাখ টনে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। ২০২৫ সালে আমদানি আরো বাড়তে পারে। অস্ট্রেলিয়া সরকারের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী দুই বছর ভারতে তাপীয় কয়লা আমদানি বাড়ার পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখবে শিল্প খাত ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার বৃদ্ধি। আমদানির পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে তাপীয় কয়লার উত্তোলনও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কয়লা পরিবহন ব্যবস্থা আরো উন্নত করতে কাজ করছে ভারত সরকার।

এদিকে চলতি বছরও বৈশ্বিক কয়লা রফতানিতে প্রথম স্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে ইন্দোনেশিয়া। তবে রফতানির ক্ষেত্রে দেশটি সম্প্রতি কিছু প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে। খরার কারণে নদীর পানি কমে যাওয়ায় বার্জে করে গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত কয়লা পরিবহন হুমকির মুখে পড়েছে। এতে আগামী দিনগুলোয় রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে উঠতে পারে।

চীনে কয়লা রফতানিতে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিযোগিতা বেড়েছে। উভয় দেশই বর্তমানে চীনের বাজার বড় পরিসরে কয়লা রফতানি করছে। ফলে এশিয়ার বাজারে জ্বালানিটির বাণিজ্য আরো জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।