মূল্যস্ফীতি ও সুদহারের কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতি ২০২৩ সালে টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে। যার প্রভাব পড়েছিল প্রধান প্রধান ব্যবসায়িক খাতে। এ সময় কয়েক বছর ধরে আলোচনায় থাকা চীনের আবাসন খাত একাধিক পতন দেখেছে। বছর শেষ হতেই আসে এভারগ্র্যান্ডের মতো জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানের অবসায়নের ঘোষণা। এসব নেতিবাচক প্রবণতা সত্ত্বেও ২০২৩ সালে বৈশ্বিক আবাসন খাত প্রবৃদ্ধির দেখা পেয়েছে বলে তুরস্কের আবাসন সংস্থা ট্রেম গ্লোবালের এক প্রতিবেদেন উঠে এসেছে। খবর আনাদোলু।

বিশ্বব্যাপী রিয়েল এস্টেট ও অবকাঠামো বাজার ২০২৩ সালে ৩৬৫ দশমিক ৫১ ট্রিলিয়ন ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।

আরো বলা হয়, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ওঠানামা সত্ত্বেও ওই বছর আবাসন খাত নিজস্ব শক্তি বজায় রেখেছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশেও আবাসিক খাতে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে পর্যটন ও অবকাঠামো বিনিয়োগ বৈশ্বিক রিয়েল এস্টেট বাজারের প্রবৃদ্ধিকে সমর্থন করেছে বলে জানায় ট্রেম গ্লোবাল। এ সময়ের প্রবণতা হিসেবে বলা হয়, কো-লিভিং ও লেনদেনে ডিজিটালাইজেশন বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া টেকসই উন্নয়নের মতো প্রবণতা সামনে এসেছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, তুরস্কের ইস্তানবুল বা সৌদি আরবের নিওমের মতো শহরগুলোর আবাসন খাতে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশী বিনিয়োগে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অনেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো কোনোটি  এখন বিভিন্ন দেশ থেকে পাচারকৃত অর্থের বড় গন্তব্য হয়েছে, যা প্রধানত এসব শহরের ক্রমবর্ধমান ও লাভজনক আবাসন খাতে বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ প্রবণতা রিয়েল এস্টেট বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে বলে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে ইউএইর আবাসন খাতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

ইউএই প্রধান চার অঞ্চলে আবাসন খাতে ২০২৩ সালে রেকর্ড পরিমাণ লেনদেন হয়েছে। এ খাতে সম্মিলিত প্রবৃদ্ধি ছিল ২২ দশমিক ৬ শতাংশ, যার পরিমাণ ৭৬ হাজার ৫১০ কোটি দিরহামের (২০ হাজার ৮৩৪ কোটি ডলার) বেশি। দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও আজমানে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০টি লেনদেন হয়েছিল এ সময়। বিশ্লেষকরা বলছেন, রেকর্ড এ লেনদেন জাতীয় অর্থনীতিতে এ খাতের ক্রমবর্ধমান অবদানকে প্রতিফলিত করছে।

ট্রেম গ্লোবালের মতে, যুদ্ধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের মতো কারণও আবাসনের চাহিদা বাড়ায়। কেননা অর্থনৈতিক দুরবস্থা, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মানের মতো সমস্যা থেকে উত্তরণ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোয় অভিবাসনের চাহিদা বাড়ছে। পূর্বাভাসে বলা হয়, এসব কারণে চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে অভিবাসন বাড়বে। অভিবাসনের এ স্রোতের দ্বিমুখী প্রভাব রয়েছে। এদিকে অভিবাসীদের কাঙ্ক্ষিত দেশে রিয়েল এস্টেটের চাহিদা বাড়ে, অন্যদিকে তাদের ছেড়ে আসা দেশে চাহিদা হ্রাস পায়।

স্মার্ট, টেকসই ও বৈচিত্র্যময় ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে আবাসন খাত, যা সামনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখতে পাবে।