ইন্দোনেশিয়ার বাণিজ্য উদ্বৃত্ত নিম্নমুখী রয়েছে। ডিসেম্বরে রফতানি ও আমদানির মধ্যকার এ ব্যবধান আরো কমেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশ্বজুড়ে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ধীর হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমছে।

বিশ্বজুড়ে পণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে গত বছর ইন্দোনেশিয়ার রফতানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল। তবে গত কয়েক মাস ধরে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য মন্দার পাশাপাশি শীর্ষ পণ্যগুলোর দামও স্থিতিশীল রয়েছে। রয়টার্সের জরিপে ১০ জন অর্থনীতিবিদের গড় পূর্বাভাস ছিল, ডিসেম্বরে দেশটি ৪০১ কোটি ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত পেয়েছে। বাণিজ্য উদ্বৃত্তের এ পরিমাণ গত সাত মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে নভেম্বরে দেশটি ৫১৬ কোটি ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত পেয়েছিল।

অর্থনীতিবিদদের ধারণা, গত মাসে ইন্দোনেশিয়ার রফতানি বছরওয়ারি ৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়েছে। যেখানে নভেম্বরে রফতানি এক বছর আগের তুলনায় ৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেড়েছিল। অন্যদিকে ডিসেম্বরে দেশটির আমদানি ৭ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। এটা হবে ২০২০ সালের নভেম্বরের পর সবচেয়ে বড় পতন।

ব্যাংক পারমাটার অর্থনীতিবিদ জোসুয়া পারদেদে ডিসেম্বরে ৪১৭ কোটি ডলার বাণিজ্য উদ্বৃত্তের অনুমান করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমার কারণে গত মাসে জ্বালানি আমদানি ব্যয় কমে যাওয়া উচিত। এর আগে ব্যাংকটি ২০২২ সালে ৫ হাজার ৪৮০ কোটি ডলার বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে পণ্যের দাম কমে যাওয়ায় এ পূর্বাভাস ৪ হাজার থেকে ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২২ সালে দেশের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রেকর্ড পর্যায়ে উন্নীত হবে। এর আগে জানুয়ারি-নভেম্বর সময়ে বাণিজ্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল রেকর্ড ৫ হাজার ৬০ কোটি ডলার। এ উদ্বৃত্তের পরিমাণ সর্বশেষ রেকর্ড ২০০৬ সালের চেয়েও বেশি।