পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের মাঝে স্বর্ণ ক্রয়ের প্রবণতা ব্যাপক হারে কমেছে। ফলে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) মূল্যবান ধাতুটির বৈশ্বিক চাহিদা কমেছে ৮ শতাংশ। গতকাল এক প্রতিবেদনে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল এ তথ্য জানিয়েছে।
সাধারণত অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সময় স্বর্ণ নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার হয়। এ বছরের শুরুতে ধাতুটির বিনিয়োগ চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে। কারণ ওই সময় রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোয় আন্তর্জাতিক পণ্যবাজারে টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি হয়। লাগাম ছাড়া হয়ে ওঠে মূল্যস্ফীতির হার।
পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করায় দেশে দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের বাজার বাড়াতে শুরু করে। মূলত মুদ্রা সংকোচনের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই ছিল এর উদ্দেশ্য।
কিন্তু সুদের হার বাড়ানোর কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা বেড়েছে। ঊর্ধ্বমুখী করে তুলছে বন্ড ইল্ডকেও। এতে বিনিয়োগ খাতে আকর্ষণ হারাচ্ছে সেফ হ্যাভেন খ্যাত স্বর্ণ। অন্যদিকে ডলারের রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির কারণে ডলারে কেনাবেচা হওয়া স্বর্ণ অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য আরো ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।
প্রান্তিকভিত্তিক প্রতিবেদনে ডব্লিউজিসি জানায়, এপ্রিল-জুন পর্যন্ত এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডসে (ইটিএফএস) ৩৮ দশমিক ৮ টন স্বর্ণ বিক্রি হয়েছে। বিক্রির এ হার মূল্যবান ধাতুটির দাম কমে যাওয়ার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তথ্য বলছে, এ বছরের মার্চে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম রেকর্ড বেড়ে আউন্সপ্রতি ২ হাজার ডলার বা তারও বেশিতে উন্নীত হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি ধাতুটির গড় দাম কমে আউন্সপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৭২০ ডলারে নেমে যায়।
ডব্লিউজিসির বিশ্লেষক লুইস স্ট্রিট বলেন, সেফ হ্যাভেন খাত স্বর্ণের চাহিদা এ খাতে বিনিয়োগের ধারা অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে। কিন্তু অব্যাহত মুদ্রা সংকোচন এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধি চাহিদার জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি দেখা দিয়েছে। তার ওপর নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যাপক মূল্যবৃদ্ধির কারণে মানুষ দৈনন্দিন ব্যয় সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে কমে যেতে পারে স্বর্ণালংকার, স্বর্ণ ও মুদ্রার কেনাবেচা।
ডব্লিউজিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্বর্ণের বৈশ্বিক চাহিদা দাঁড়িয়েছে ৯৪৮ টনে। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কমলেও বছরের প্রথম ছয় মাস মিলিয়ে ধাতুটির চাহিদা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ বেড়েছে। চাহিদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৮৯ টনে। মূলত বছরের প্রথম প্রান্তিকে শক্তিশালী চাহিদার কারণেই বছরের প্রথমার্ধে চাহিদা বেড়েছে।
এদিকে গত দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্বর্ণালংকারের বৈশ্বিক চাহিদা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৬ শতাংশ কমেছে। চাহিদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৮৪ দশমিক ৩ টনে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চাহিদা ৬ শতাংশ বেড়েছে। প্রযুক্তি খাতে চাহিদা এক প্রান্তিকের ব্যবধানে ৩ শতাংশ কমেছে। চাহিদার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮ দশমিক ৪ টনে। সরাসরি বিনিয়োগ খাতে প্রান্তিকভিত্তিক চাহিদা ৬৩ শতাংশ কমে ২০৫ দশমিক ৮ টনে নেমেছে। স্বর্ণের বার ও কয়েনের চাহিদা ১৩ শতাংশ কমে ২৪৪ দশমিক ৫ টনে নেমেছে। এছাড়া ইটিএফএস ও সমজাতীয় খাতে ধাতুটির চাহিদা ১১৪ শতাংশ কমে ৩৮ দশমিক ৮ টনে নেমেছে।










