দেশে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানো, ব্যবসার পরিবেশ সহজীকরণ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যবসায়ীদের অহেতুক হয়রানি বন্ধ করাসহ আইনের স্বেচ্ছাচারিতা কমাতে কাস্টমস এবং ভ্যাট কাঠামোয় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। গতকাল শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের কাস্টমস ও ভ্যাটবিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির এক সভায় তারা ব্যবসাবান্ধব কাস্টমস ও ভ্যাট কাঠামোর দাবি তুলে ধরেন। 

ব্যবসায়ীরা জানান, শিল্পের জন্য কাঁচামাল কিংবা যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ, অযৌক্তিক জরিমানা, এইচএস কোড সংক্রান্ত জটিলতা এবং মিথ্যা ঘোষণার নামে নানাবিধ হয়রানির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বহুবার আলোচনার পরও সুফল মিলছে না, যা ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বাস্তবায়নে অন্তরায়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি মাহবুবুল আলম। তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের জন্য ভ্যাট, আয়কর এবং কাস্টমস খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এসব বিষয়ে ব্যবসায়ী মহলকে প্রতি মুহূর্তে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পণ্যের এইচএস কোড ইস্যুতে রাজস্ব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হলেও ফলাফল মিলছে না। আমরা সরকারকে অগ্রিম আয়কর দিচ্ছি, কিন্তু সেটি আর রিফান্ড হচ্ছে না। এসব বিষয় ব্যবসা-বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করছে, ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।’

ব্যবসায়ীরা ভ্যাট-ট্যাক্স দেয়ার বিপক্ষে নয় উল্লেখ করে মাহবুবুল আলম বলেন, ‘আমরা ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে চাই। তবে সেটি যেন অযৌক্তিক না হয়।’ এ সময় কাস্টমস এবং ভ্যাট কাঠামো সহজীকরণ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক ও সুনির্দিষ্ট পরামর্শ চান এফবিসিসিআই সভাপতি।

এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মো. আমিন হেলালী বলেন, ‘ব্যবসাবান্ধব কাস্টমস, ভ্যাট এবং কর কাঠামো বাস্তবায়ন করা গেলে সরকারের রাজস্ব আহরণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। গত ১৫ বছরে দেশের অর্থনীতির আকার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু রাজস্ব প্রশাসন আগের মতোই রয়ে গেছে।’ এ সময় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে উদ্ভাবনী ও সৃজনশীল নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।