গত বছর তার বার্ষিক পারিশ্রমিক ছিল ১৫ হাজার ৮৩০ কোটি ডলার। শীর্ষ নির্বাহী ও সাধারণ কর্মীদের আয়ের ব্যবধান নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শ্রমিক ইউনিয়ন ফেডারেশন এএফএল-সিআইও চলতি সপ্তাহে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। এতে বলা হয়, মাস্কের পারিশ্রমিক অন্য শীর্ষ নির্বাহীদের তুলনায়ও ব্যতিক্রমী। তাকে হিসাবের বাইরে রাখলে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর সিইও ও কর্মীদের পারিশ্রমিকের গড় ব্যবধান দাঁড়ায় ৩১২ গুণ। ২০২৪ সালে এ ব্যবধান ছিল ২৮৫ গুণ। তবে মাস্ককে হিসাবের মধ্যে রাখলে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ৩৮৭ গুণে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালে টেসলার একজন মধ্যম সারির কর্মী যে পরিমাণ পারিশ্রমিক পেয়েছেন, সে অর্থ মাস্ক প্রতি ৪ দশমিক ২৩ সেকেন্ডে আয় করেছেন। একই সময় এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর অধিকাংশ সিইও একদিনে যে অর্থ পেয়েছেন, তা একজন মধ্যম আয়ের মার্কিন কর্মীর এক বছরের আয়ের চেয়েও বেশি।

মাস্কের বিশাল পারিশ্রমিকের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বড় কোম্পানিগুলোর শীর্ষ নির্বাহীদের গড় আয়ও অনেক বেড়েছে। মাস্ককে বাদ দিলে ২০২৫ সালে এসব কোম্পানির সিইওদের গড় পারিশ্রমিক ছিল ২ কোটি ২৮০ লাখ ডলার। ২০২৪ সালে তা ছিল ১ কোটি ৮৯০ লাখ ডলার। মাস্ককে হিসাবের মধ্যে রাখলে গড় পারিশ্রমিক বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪ কোটি ১০ লাখ ডলার।

এএফএল-সিআইওর প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক আয়বৈষম্যের চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, দেশটির মোট জাতীয় আয়ে কর্মীদের হিস্যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যেকোনো সময়ের তুলনায় সবচেয়ে নিচে নেমে গেছে।

প্রতিবেদনটি শুধু করপোরেট নির্বাহীদের পারিশ্রমিক নয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০২৫ সালের আয়ও পর্যালোচনা করেছে। এতে বলা হয়, গত বছর ট্রাম্পের আয় ছিল ২২০ কোটি ডলার। আগের বছরের তুলনায় তার আয় বেড়েছে প্রায় ২৫৪ শতাংশ।