এশিয়ার দেশগুলো চলতি মাসের এখন পর্যন্ত রেকর্ড সর্বোচ্চ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। অঞ্চলটির সবচেয়ে বড় জ্বালানি তেল ব্যবহারকারী দেশ চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া। দেশ দুটিতে ব্যাপক চাহিদার কারণে আমদানি অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। সম্প্রতি বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান রেফিনিটিভ অয়েল রিসার্চ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, চলতি মাসে এশিয়ায় প্রতিদিন ২ কোটি ৮৪ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি হয়েছে। অক্টোবরের তুলনায় আমদানি ১১ শতাংশ বেড়েছে।

বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনীতির দেশ চীনের আমদানি বেড়ে ১১ মাসে সর্বোচ্চে উন্নীত হয়েছে। চলতি মাসে দেশটি প্রতিদিন ১ কোটি ১৭ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। অক্টোবরের তুলনায় আমদানি বেড়েছে ১২ শতাংশ। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়া আমদানি করেছে দৈনিক ৩৩ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল করে। এর আগের মাসে আমদানি করা হয়েছিল দৈনিক ২৫ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল করে।

রেফিনিটিভের তেল গবেষণা বিভাগের পরিচালক ইয়াও ইয়ান চোং বলেন, চীনে দুটি গ্রিনফিল্ড রিফাইনারি বাণিজ্যিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। পেট্রোচায়নার রিফাইনারি দুটির মধ্যে গুয়ানডং পেট্রোকেমিক্যালের সক্ষমতা দৈনিক চার লাখ ব্যারেল এবং শেংডং পেট্রোকেমিক্যালের সক্ষমতা দৈনিক ৩ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল। এ দুটি রিফাইনারির কারণেই চীনে আমদানিতে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে বিশ্ববাজারে অনিশ্চয়তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এছাড়া সম্প্রতি রফতানি কোটাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এসব কারণে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো বিপুল পরিমাণে জ্বালানি তেল কিনছে। শুধু এশিয়ায় নয়, বর্তমানে জ্বালানি নিরাপত্তা বিশ্বের বেশির ভাগ দেশের জন্যই ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাশিয়ার জ্বালানি তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে বাজারকে বহুমুখী প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এরই মধ্যে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। রফতানিকারক দেশগুলোর জোট ওপেকের উত্তোলন কমিয়ে আনার ঘোষণা তারই একটি।

যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়াসহ বিশ্বের উন্নত অর্থনীতিগুলোর জোট জি-৭ আগামী ৫ ডিসেম্বর সমুদ্রপথে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর দ্বিতীয় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। ফলে সরবরাহ সংকট চরম আকার ধারণ করতে পারে।

এদিকে রাশিয়াসহ ওপেকের মিত্র জোট ওপেক প্লাস উত্তোলন দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল কমিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে পশ্চিমা সরকারগুলো। বিশেষ করে বাইডেন প্রশাসন এটিকে অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দিয়েছে।

ইয়াও ইয়ান বলেন, ওপেক প্লাসের এ সিদ্ধান্ত কেউই ভালোভাবে নেয়নি বলে আমার বিশ্বাস। জোটটি অসময়ে উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিশ্চিতভাবেই এটি বাজারে ভারসাম্য আনবে না। সরবরাহ চেইন ও উত্তোলনে কোনো রকম বিপত্তি দেখা দিলেই বাজার আরো সংকুচিত হয়ে উঠবে। আগামী বছরের সরবরাহ পরিস্থিতি কেমন হবে, তা নিয়ে কেউই এখনো কোনো ধারণা করতে পারছে না।

এদিকে চলতি মাসেও এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করেছে সৌদি আরব। রেফিনিটিভের হিসাব অনুযায়ী, সরবরাহের পরিমাণ দৈনিক ৫৮ লাখ ২০ হাজার টনে পৌঁছেছে।

অন্যদিকে, ভারত ও চীনে রাশিয়ার সরবরাহও ছিল শক্তিশালী। চলতি মাসে চীন দেশটি থেকে দৈনিক ১৮ লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। অক্টোবরে আমদানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ১৬ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল। অন্যদিকে ভারত দেশটি থেকে আমদানি এক মাসের ব্যবধানে ১১ শতাংশ বাড়িয়েছে।