দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি বাড়ায় সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। এতে কেজিতে পণ্যটির দাম কমেছে ৫-৬ টাকা। দুদিন পেঁয়াজের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা যাওয়ার পর ফের দাম কমতে শুর করায় খুশি বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকাররা। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হিলিসহ দেশের সব স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বেড়েছে। এতে সরবরাহ সংকট কমে যাওয়ায় দাম কমেছে পণ্যটির।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে ভারতীয় ইন্দোর ও নাসিক জাতের পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত। বন্দরে ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকা কেজি দরে, যা দুদিন আগে ছিল ৫৭-৫৮ টাকা। এছাড়া নাসিক জাতের পেঁয়াজের দামও দুদিন আগের ৬৩ থেকে কমে ৫৮-৬০ টাকায় নেমেছে।

বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা আইয়ুব হোসেন বলেন, ‘‌হঠাৎ করেই গত সপ্তাহের শেষের দিকে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করে। তবে দুদিন ধরে আমদানি বাড়ায় দাম কমতে শুরু করেছে। দাম কমায় আমাদের কিনতে সুবিধা হচ্ছে। সোনামসজিদসহ অন্য বন্দরে পেঁয়াজের দাম আরো কিছুটা কম রয়েছে। সেখানে কেজিপ্রতি ৪৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক শাহিনুর রেজা বলেন, ‘‌কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাতের ফলে ভারতের অনেক অঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। ফলে পেঁয়াজ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ কমে যায়। ভারতেই পেঁয়াজের দাম খানিকটা বেড়ে গেছে। আর দুর্গা পূজার কারণে পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে বন্দরে প্রবেশের আগ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে থেমে পূজার চাঁদা দিতে হচ্ছে। তাছাড়া সড়কে প্রতিমা তৈরির কারণে পণ্যবাহী ট্রাকগুলোর আসতে বেশি সময় লাগছে। বাড়তি দামে আমদানি ও পণ্য পরিবহনে বাড়তি সময় লাগায় ভাড়া বেশি গুনতে হচ্ছে। এসব কারণে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ছিল। অক্টোবরের শেষের দিকে পূজা উপলক্ষে হিলিসহ দেশের বিভিন্ন স্থলবন্দর ছয়-সাতদিন বন্ধ থাকবে। এ কারণে আমরা এখন আমদানি বাড়িয়েছি। তাই দেশের বাজারে চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজ সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কমেছে।’

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘বন্দর দিয়ে গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে পেঁয়াজ আমদানি খানিকটা বেড়েছে। শনিবার বন্দর দিয়ে ৫২টি ট্রাকে ১ হাজার ৫৬৪ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। রোববার ৪২টি ট্রাকে ১ হাজার ২৪১ টন এবং সোমবার ৩৮টি ট্রাকে ১ হাজার ১৪৯ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। আজও বন্দর দিয়ে আমদানি অব্যাহত।’