ভারতে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৪-৭ শতাংশ বাড়তে পারে। সম্প্রতি কেয়ারএজ রিসার্চ এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, দেশটিতে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন বেড়ে ১২ কোটি ৩০ লাখ থেকে ১২ কোটি ৭০ লাখ টন হবে। খবর লাইভমিন্ট।
চলতি অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ ব্যবহারও বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছে সংশ্লিষ্টরা। কেয়ারএজের পরিচালক তানভি শাহ জানিয়েছেন, ২০২৪ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ৮-১০ শতাংশ বাড়বে। এর পেছনে রিয়েল এস্টেটের বিকাশ, নির্মাণ কার্যক্রম বৃদ্ধি ও অটো বিক্রি উল্লেখযোগ্য।
যেহেতু ভারত ২০২৩ সালে প্রাক-নির্বাচনী বছরে প্রবেশ করেছে, সরকার রাজ্য ও কেন্দ্রীয় উভয় পর্যায়ে বিনিয়োগ বাড়াতে পারে। এজন্য বাজেটের মূলধন ব্যয় ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। এর মধ্যে পরিকাঠামোর জন্য ১০ লাখ কোটি রুপি, রেলের জন্য ২ লাখ ৪০ হাজার কোটি রুপি ও ১০০ পরিবহন পরিকাঠামোর প্রকল্প রয়েছে। এ উদ্যোগগুলো ইস্পাতের অভ্যন্তরীণ চাহিদার জন্য লাভজনক।
২০২৩ অর্থবছরে অটোমোবাইল খাতে ইস্পাতের বৃদ্ধি ২১ শতাংশ বেড়েছে। কেয়ারএজ রিসার্চের তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ অর্থবছরের ১১ মাসে (এপ্রিল ২০২২-ফেব্রুয়ারি ২০২৩) অভ্যন্তরীণ খাতে ইস্পাত উৎপাদন ও ব্যবহার বার্ষিক ভিত্তিতে ৬ দশমিক ২ শতাংশ ও ১১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু ২০২২ সালে মে-নভেম্বর বৈশ্বিক চাহিদার ধীরতা ও ইস্পাত পণ্যে ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে পণ্যটির রফতানি ৫২ শতাংশ হ্রাস পায়। সংস্থাটি জানায়, এ সময় আমদানি বৃদ্ধি ২৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে যায় ও ভারত অক্টোবর ২০২২ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সময়ের জন্য ইস্পাত আমদানিকারক হয়ে ওঠে।
তানভি শাহ জানান, ইস্পাত পণ্য ও অন্যান্য ধাতব পণ্যে রফতানি শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে ডিসেম্বরের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে রফতানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, ২০২৪ অর্থবছরে রফতানির পরিমাণ মাত্রা ছাড়াবে।
অন্যদিকে ভারতে উৎপাদন বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হলেও ইউরোপে ইস্পাতের চাহিদা কমছে, বাড়ছে দাম। গ্রাহক পর্যায়ে চাহিদা কমার পাশাপাশি ব্যবসায়ী পর্যায়ে ক্রয় কমার প্রভাব পড়েছে এ খাতে।
ইউরোপের তুলনায় পোলিশ ও চেক উৎপাদনের পিএমআই উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ২০২৩ সালের শুরুর দিকে চাঙ্গা ভাব বিরাজ করলেও এখনো নিম্নমুখী ইস্পাতের বাজার। উচ্চমূল্যস্ফীতি ও ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচের কারণে বিশ্বের অনেক ব্যবসা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে চেক রিপাবলিক অন্যতম। দেশটির অনেক কোম্পানি নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করেছে এবং আরো প্রতিষ্ঠান এ পথে রয়েছে।









