জলবায়ু পরিবর্তনের হার কমাতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন তত্পর। বিশেষ করে কার্বন নিঃসরণ হার কমানোই এখন অন্যতম লক্ষ্য। নিঃসরণের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে জ্বালানি তেলচালিত বাহন। এর ব্যবহার কমাতে ব্যাটারিচালিত যানের প্রচলন বাড়ছে। এ পরিবর্তনের ধারায় নতুন করে যুক্ত হলো আফ্রিকার দেশ কেনিয়া। দেশটিতে বর্তমানে ব্যাটারি পরিবর্তনের সুযোগ বাড়ায় বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল ব্যবহার বাড়ছে। খবর রয়টার্স।

কয়েক মাস ধরে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি থেকে শুরু করে অন্যান্য শহরে বৈদ্যুতিক যানে ব্যবহূত ব্যাটারি পরিবর্তনের স্টেশন গড়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে দেশটিতে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল ব্যবহারের বিপ্লব ছড়িয়ে যাচ্ছে। যেখানে দেশটিতে কমবাসশন ইঞ্জিনের মোটরসাইকেল ব্যবহার সাশ্রয়ী এবং গাড়ির তুলনায় দ্রুত শহরের মধ্যে যাতায়াত করা যায়। কিন্তু পরিবেশবিদরা জানান দ্রুত হলেও এটি পরিবেশের জন্য ১০ গুণ বেশি ক্ষতিকর।

পূর্ব আফ্রিকার অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশটি বর্তমানে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেলের ওপর আস্থা রাখছে। অঞ্চলটিকে শূন্য কার্বন নিঃসরণ অঞ্চলে পরিণত করতে, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে ও প্রযুক্তি খাতের অন্যতম স্টার্টআপে পরিণত হতে এ উদ্যোগ।

ব্যাটারি পরিবর্তনের এ পদ্ধতি যে শুধু সময় বাঁচায় তা নয়। এটি কেনিয়ার ১০ লাখের বেশি মোটরসাইকেল চালকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অধিকাংশই বাণিজ্যিকভাবে মোটরসাইকেল ব্যবহার করে থাকে। পরিবর্তনের এ সুবিধা ক্রেতাদের অতিরিক্ত খরচও কমিয়ে দেয়। কেননা অধিকাংশ বিক্রেতা একটি নির্দিষ্ট মডেল অনুসরণ করে থাকে। যেখানে ব্যাটারির মালিকানা তাদের হাতে থাকে।

বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল কোম্পানি ইকোবোডার সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জুমা বলেন, ব্যাটারির মালিকানা নেয়া চালকদের জন্য অর্থনৈতিক বা ব্যবসায়িক কোনো অর্থ বহন করে না। এটি নেয়া হলে মোটরসাইকেলের দাম দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। কেনিয়ায় ইকোবোডা পরীক্ষামূলকভাবে ব্যাটারিচালিত ৫০টি মোটরসাইকেলের পরীক্ষা চালাচ্ছে। ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ৫০০ ডলার মূল্যের এক হাজার মোটরসাইকেল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা কমবাসশন ইঞ্জিনচালিত মোটরসাইকেলের সমান।