গোল্ডেন উইকের ছুটিতে চীনের ভোক্তা ব্যয় কভিড-১৯ পূর্ববর্তী পর্যায়কে ছাড়িয়ে গেছে। পর্যটন খাতের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি এসেছে খুচরা ব্যবসায়। ফলে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের গতি নিয়ে অনিশ্চয়তায় থাকা দেশটি কিছুটা আস্থা ফিরে পাচ্ছে। অবশ্য আবাসন খাতে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা মোকাবেলায় পর্যটন খাতকে যথেষ্ট বলে মনে করছেন না বিশ্লেষকরা। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
চীনে মধ্য শরৎ উৎসবকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তখন দূরদূরান্ত থেকে এসে মানুষ পরিবারের সঙ্গে সময় কাটে। বেড়ে যায় ভোক্তা ব্যয়। চলতি বছরে উৎসবটি জাতীয় দিবসের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়েছে ছুটির সময়। দেশটির স্থানীয় পরিষেবা জায়ান্ট মেইতুয়ানের প্রতিবেদন বলছে, পরিষেবা ও রিটেইল খাতে দৈনিক বিক্রি ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৫৩ শতাংশ বেড়েছে। খাবার বাবদ খরচ বেড়েছে ২৫৪ শতাংশ।
চীনের শহরগুলোর মধ্যে সাংহাই, বেইজিং, চেংডু, চংকিং ও শেনঝেন ছিল ভোক্তা ব্যয়ের দিক থেকে শীর্ষে। শহরের প্রধান সড়কগুলোয় ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়। তিব্বতের লিনঝি ও গুয়াংডংয়ের শানওয়েই এবার রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক পেয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন বলছে, ছুটির প্রথম সাতদিনে রিটেইল ও ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানগুলোয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় বেড়েছে ৯ শতাংশ।
আলিবাবা গ্রুপের অধীনে পরিচালিত অনলাইন ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্লিগি ছুটির মধ্যে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ার কথা জানিয়েছে। ফ্লিগি থেকে গাড়ি ভাড়া করে নেয়ার হার ২০১৯ সালের তুলনায় বেড়েছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। দক্ষিণ চীনের গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণ গন্তব্য হাইনান। ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত সেখানে শুল্ক বাদে মোট বিক্রির পরিমাণ ছিল ১০১ কোটি ইউয়ান বা ১৪ হাজার কোটি ২ লাখ ৪০ হাজার ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিক্রি বেড়েছে ৯৪ দশমিক ২ শতাংশ। ক্রেতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার, যা গত বছরের তুলনায় ১২০ শতাংশ বেশি।
চীনের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন বলছে, এবারের ভ্রমণ মৌসুমে পর্যটকের সংখ্যা ছিল ৮২ কোটি ৬০ লাখ। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৭১ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালের তুলনায় ভ্রমণ বেড়েছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাত থেকে আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ হাজার ৩০০ কোটি ইউয়ান। ২০২২ সালের ছুটির মৌসুমের তুলনায় এটি ১২৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। ২০১৯ সালের তুলনায় আয় বেড়েছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। অবশ্য গত বছর মহামারীসংশ্লিষ্ট বিধিনিষেধের কারণে মানুষ পর্যটনে অনুৎসাহিত ছিল।
চলচ্চিত্র শিল্প পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান ডেংটা জানিয়েছে, ছুটির মৌসুমে বক্স অফিসের আয় ২৬০ কোটি ইউয়ান ছাড়িয়েছে। গত বছর আয়ের পরিমাণ ছিল ১৫০ কোটি ইউয়ান। এবার প্রথমবারের মতো মাথাপিছু ব্যয় ২০১৯ সালের হিসাবকে ছাড়িয়ে গেছে।
চীনের অর্থনীতি দ্বিতীয় প্রান্তিকে মন্থরতার পর এবার কিছুটা আশা নিয়ে এসেছে। বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনীতির দেশটির জিডিপি নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো। সিটি গ্রুপ ও জেপি মরগান মনে করে, চলতি বছর চীনের প্রবৃদ্ধি হবে ৫ শতাংশ। এর আগের পূর্বাভাসে সিটি গ্রুপ ৪ দশমিক ৭ ও জেপি মরগান ৪ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি থাকার কথা জানিয়েছিল। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠান নমুরার জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ লু টিং সতর্ক করেছেন, ছুটি পার হলেই ভোক্তা ব্যয় কমতে শুরু করবে। তিনি বলেন, ‘স্কুলগুলো খুলে দেবে। এগিয়ে আসছে গ্রীষ্মকাল। পরিবহন, পোশাক ও হোটেল ব্যয়ের গতি কিছুটা মন্থর হবে আগামী দিনগুলোয়। বিশেষ করে ছুটির দিন পার হলেই এটি দৃশ্যমান হবে।’










