যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে বড় গিগাফ্যাক্টরি নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে চীনা ব্যাটারি কোম্পানি ইভ এনার্জি। কভেন্ট্রি এলাকার এ কারখানায় প্রাথমিক ১২০ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগ হবে। এতে প্রায় ছয় হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। খবর ইউরো নিউজ বিজনেস।
ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো যুক্তরাজ্যও গ্রিন টেকনোলজি খাতে ব্যাপক সুবিধা দিচ্ছে। নতুন এ কারখানা দেশটির পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির কেন্দ্রীয় অংশ হয়ে উঠবে।
গিগাফ্যাক্টরির খবর প্রথম প্রকাশ করে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সানডে টাইমস। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাথমিকভাবে ওই প্রকল্প থেকে ২০ গিগাওয়াটের উৎপাদন পাওয়া যাবে, যা পরবর্তী সময়ে ৬০ গিগাওয়াট পর্যন্ত বাড়বে।
তবে ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস অঞ্চলের এ গিগাফ্যাক্টরি নিয়ে এখনই মন্তব্য করতে রাজি নন সংশ্লিষ্টরা। এ বিষয়ে একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘আমরা সংবাদমাধ্যমে জল্পনা নিয়ে মন্তব্য করব না।’
তিনি আরো বলেন, ‘ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস গিগাফ্যাক্টরি যুক্তরাজ্যের একমাত্র বিনিয়োগ অঞ্চল, যেখানে বড় মাপের ব্যাটারি কারখানার অনুমতি রয়েছে। এরই মধ্যে৷আমরা বেশ কয়েকটি বৈশ্বিক ব্যাটারি প্রস্তুতকারকের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তবে আলোচনাগুলো গোপনীয়৷।’
ইভ এনার্জির কারখানার জন্য শিল্প অঞ্চলটির সম্প্রসারণ হবে। এতে ইংল্যান্ডের উত্তর-পূর্বের সান্ডারল্যান্ডে অবস্থিত নিশানের বৈদ্যুতিক ব্যাটারি কারখানাটির চেয়ে এর আকার দ্বিগুণ হবে।
এ বিষয়ে বাণিজ্য পরিষেবা সংস্থা এজে বেলের বিনিয়োগ বিশ্লেষক ড্যান কোটসওয়ার্থ বলেন, ‘বড় বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে যুক্তরাজ্য।’
তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে মাইক্রোসফ্ট ও গুগল তাদের ডাটা সেন্টারে কোটি কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনার ঘোষণা করেছে। এ গিগাফ্যাক্টরি তৈরিতে ইভ এনার্জিও যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে পারে।’
গত বছর জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের মালিক টাটা গ্রুপ ইংল্যান্ডের সমারসেটে একটি বৈদ্যুতিক ব্যাটারি প্ল্যান্ট নির্মাণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়। এসব উদ্যোগ সত্ত্বেও অনেকে দাবি করছে, গিগাফ্যাক্টরি সম্প্রসারণে যথেষ্ট কাজ করছে না যুক্তরাজ্য। ফেব্রুয়ারিতে দেশটির বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড কমিটি জানায়, যুক্তরাজ্যে ব্যাটারি উৎপাদনে সরকারের পরিষ্কার কোনো পরিকল্পনা নেই।
বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড কমিটির প্রধান লিয়াম বায়রনের মতে, যুক্তরাজ্যকে এখনই এ খাতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নইলে ভবিষ্যতে ‘গিগাগ্যাপ’ তৈরির ঝুঁকি রয়েছে। এতে যুক্তরাজ্যে মোটরগাড়ি শিল্পে কর্মরত ১ লাখ ৬০ হাজার কর্মীর চাকরি হুমকির মুখে পড়তে পারে।










