বিশ্বের ৪৬টি স্বল্পোন্নত দেশে সহায়তার জন্য আরো বেশি বৈশ্বিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা (আঙ্কটাড)। এসব দেশ যেন নিজেদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বা এফডিআই আকর্ষণে সক্ষম হয় সেজন্য এ সহায়তার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। কাতারের রাজধানী দোহায় চলমান পঞ্চম এলডিসি সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। খবর দ্য ন্যাশনাল।

গত বছর বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এসব দেশে এফডিআইয়ের প্রবাহ কমে যায়। চলতি বছরও প্রত্যাশিত বিনিয়োগ পাওয়া যাবে না বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে স্বল্পোন্নত দেশ ও উন্নত দেশগুলোর মধ্যকার পার্থক্য আরো প্রকট হবে বলে মনে করছে আঙ্কটাড।

জাতিসংঘের জেনেভাভিত্তক সংস্থাটি বলছে, আগামী দশকে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য জোরালো আহ্বান জানাবে আঙ্কটাড। কভিড-১৯ মহামারীর কারণে দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এলডিসি দেশগুলো। এর পরপরই শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এর কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ যেমন উচ্চ সুদের হার এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে একধরনের সংকটের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।

গত দশকে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোয় প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের পরিমাণ বেশ পরিমিত ছিল। ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বৈশ্বিক এফডিআইয়ের ২ শতাংশেরও কম প্রবেশ করত এসব দেশে। এলডিসিভুক্ত দেশগুলো উচ্চঋণের ব্যয়ের চ্যালেঞ্জও মোকাবেলা করেছে, একই সময়ে অতিপ্রয়োজনীয় পরিষেবা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তারল্য সংকটেও ভুগেছে দেশগুলো। আঙ্কটাড আরো বলছে, ২০১১ সালের তুলনায় বর্তমানে এসব দেশে ঋণ পরিষেবার ব্যয় ২০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলোর জন্য দ্রুত বৈশ্বিক পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ গত কয়েক বছরে দেশগুলো যে উন্নয়ন করেছে, বর্তমান সংকট সে উন্নয়নের জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। 

এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য কার্যকর ঋণসহায়তা এবং আন্তর্জাতিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে আঙ্কটাড। যেন দেশগুলোয় শক্তিশালী উৎপাদন সক্ষমতা সৃষ্টি করা যায়, রফতানি বৈচিত্র্য সৃষ্টি হয় এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রক্রিয়ায় রূপান্তরের পথটি টেকসই হয়। 

এলডিসিভুক্ত দেশগুলোকে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল অর্থনীতির দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বৈশ্বিক জিডিপির মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশের দায় এ দেশগুলোর। এছাড়া বিশ্বের মোট পণ্য রফতানির ১ শতাংশেরও কম বাণিজ্যের সঙ্গে এ দেশগুলো যুক্ত। যদিও বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১৪ শতাংশেরই বাস এ দেশগুলোয়। 

আঙ্কটাড বলছে, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এলডিসিভুক্ত দেশগুলো উপেক্ষিত থেকেছে। কারণ এসব বিনিয়োগের বেশির ভাগই গেছে উন্নয়নশীল ও উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোয়। ২০২১ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) তহবিলের মধ্যে সব মিলিয়ে এলডিসির দেশগুলো পেয়েছে ১৫ শতাংশ বা ৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলার, যা ২০২০ সালের চেয়েও ১৯ শতাংশ কম। বিশেষ করে খাদ্য, কৃষি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে। 

এলডিসিভুক্ত দেশগুলোয় আরো বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন উল্লেখ করে আঙ্কটাড বলছে, যেন টেকসই উন্নয়নসংক্রান্ত খাতগুলোয় বিনিয়োগ আকর্ষণের সক্ষমতা বাড়ানো যায়। খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষি অর্থনীতি, পর্যটন, উৎপাদন, জ্বালানি, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি ইত্যাদি। বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল অর্থনীতির দেশগুলো যে সংকটে পড়েছে তা থেকে উত্তরণে দ্রুত উন্নত দেশগুলোকে পাশে দাঁড়াতে আহ্বান জানিয়েছে আঙ্কটাড। সংস্থাটি বলছে, তাদের লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক অর্থনীতির সুবিধাগুলো এলডিসিভুক্ত দেশগুলোয় পৌঁছে দেয়া। এসব দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা, অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির ব্যবস্থা করা এবং রফতানিতে বৈচিত্র্য সৃষ্টি করা। যেন এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশগুলো স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীলে দেশে উত্তরণ ঘটাতে পারে।