নিম্নমুখী প্রবণতায় বছর শেষ করতে যাচ্ছে ভারতের চা রফতানি। পণ্যটির রফতানি গত বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ কমার আশঙ্কা রয়েছে। ইরান আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দেয়ায় রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন। 

ইন্ডিয়ান টি এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান অংশুমান কানুরিয়া জানান, ২০২২ সালে ভারত ২৩ কোটি ১০ লাখ ৮০ হাজার কেজি চা রফতানি করেছিল। এ বছর রফতানির পরিমাণ তার চেয়ে কমবে। তিনি বলেন, ‘আগের বছরের তুলনায় রফতানি ১০ শতাংশ কমতে পারে বলে মনে করছি আমরা। মূলত ইরানের বাজারের কারণেই রফতানিতে নিম্নমুখী প্রবণতা তৈরি হয়েছে। ইরান সরকার চা আমদানির জন্য বৈদেশিক মুদ্রার বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে। এতে দেশটির ব্যবসায়ীরা আমদানি কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন।’ 

দেশটির চা বোর্ডের দেয়া তথ্যমতে, জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারত আন্তর্জাতিক বাজারে ১৫ কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার কেজি চা বিক্রি করেছে, গত বছরের একই সময় যা ছিল ১৬ কোটি ৬০ লাখ কেজি। 

এদিকে চলতি বছর কেনিয়া, শ্রীলংকা ও চনের মতো শীর্ষ দেশগুলো থেকেও রফতানি কমে গেছে। এর মূল কারণ ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি। যদিও এ বছর শেষে বৈশ্বিক চা উৎপাদন ২০২২ সালের তুলনায় ঊর্ধ্বমুখী থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।  

ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সেক্রেটারি ও ইন্ডাস্ট্রি বিশেষজ্ঞ সুজিত পাত্র বলেন, ‘চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ভারতের চা রফতানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৮০ লাখ কেজি কমেছে। ইরান, রাশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিআইএসভুক্ত দেশসহ প্রায় বেশির ভাগ ক্রেতা দেশেই রফতানি কমেছে। তবে ইরাক, তুরস্ক ও চীনে রফতানি কিছুটা বেড়েছে।’ 

আইসিআরএর ভাইস চেয়ারম্যান ও কো-গ্রুপ হেড কৌশিক দাস বলেন, ‘চলতি বছর ভারতের চা রফতানি নিশ্চিতভাবে কমবে। শীর্ষ ক্রেতা ইরানে সেপ্টেম্বরে রফতানি কমেছে প্রায় ৯০ শতাংশ।’

বাজার বিশ্লেষকরা জানান, ভারতের পাশাপাশি অন্যান্য দেশের চা রফতানিও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৈশ্বিক চা রফতানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে প্রায় আট কোটি কেজি। তবে বৈশ্বিক উৎপাদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় তিন কোটি কেজি বেড়েছে। রফতানির বিপরীতে বাড়তি উৎপাদনের কারণে বিশ্বজুড়ে পণ্যটির দামও নিম্নমুখী।