পূর্বাভাস আগেই ছিল, ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বৃদ্ধি করলে ভোক্তা ব্যয় এবং মার্কিন করপোরেট খাতের মুনাফা সংকুচিত হবে। একই সঙ্গে নতুন কর্মী নিয়োগ বন্ধ হবে, যা সার্বিকভাবে স্থিতিশীল অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলবে।
দুই বছর আগে যখন ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বাড়াতে শুরু করে, অর্থনীতিবিদরা যতটা প্রত্যাশা করেছিলেন তখন ততটা ঘটেনি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ছিল। উচ্চ সুদহারজনিত ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পেরেছে সর্ববৃহৎ কোম্পানিগুলো। পুনরায় আয় বেড়েছে। কোম্পানিগুলো নতুন কর্মী নিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। সার্বিক অর্থনীতি এবং পুঁজিবাজারও গতিশীল ছিল।
মর্টগেজ সুদহার ৩ দশমিক ৬ শতাংশ রয়েছে। ফলে গত বছরের শুরু পর্যন্ত লাখ লাখ বাড়ির মালিক সাশ্রয়ী খরচে নতুন করে বাড়ি কেনা বা বাড়িতে পুনর্বিনিয়োগ করতে পেরেছে। তবে সুদহার বাড়ার আগে থেকে বন্ড মার্কেটে বিনিয়োগ করা কমিয়ে দিয়েছে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কোম্পানিগুলো।
অর্থনীতিবিদরা জানান, দুটো কৌশলে বড় কোম্পানিগুলো উচ্চ সুদের প্রভাব এড়াতে পেরেছে।
ফেড ২০২২ সালের শুরুতে শূন্য থেকে সুদহার বাড়াতে বাড়াতে ৫ শতাংশ পর্যন্ত নিয়ে গেছে। এ ফাঁকে শীর্ষ ব্যবসায়ীরা উচ্চ সুদহারে যেসব খাতে মুনাফা করা যায় সেসব খাতে বিনিয়োগ করা শুরু করেন।
এসব খাত অন্য সময় ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে অপরিশোধিত ঋণের সুদ পরিশোধ এবং ঋণভিত্তিক বিনিয়োগ বন্ধ করা। এভাবে কয়েকটি মার্কিন কোম্পানি সেপ্টেম্বর শেষে ১৩ কোটি ৬৮ লাখ ডলার আয় করেছে। ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিসের তথ্যানুসারে, ১৯৮০ সালের পর থেকে এ সংখ্যা নেহাত কম নয়।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং ঝুঁকিপূর্ণ করপোরেট ঋণগ্রহীতারা এরই মধ্যে সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব দেখেছে। গত কয়েক বছরে সুদহার না কমায় বড় কোম্পানিগুলো ঋণের খরচের দ্রুত বৃদ্ধি দেখেছে। গত দুই বছরে করপোরেট বন্ড এবং ঋণের বাজারে অপরিশোধিত ঋণ ক্রমাগত বেড়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান উচ্চ সুদের কারণে তাদের ঋণ পুনঃতফসিল করেছে।
ব্যাংক অব আমেরিকার গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকটি কোম্পানি ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ঋণের এক-তৃতীয়াংশ তথাকথিত জাঙ্ক বন্ড মার্কেটে ইস্যু করেছে। এগুলো আগামী তিন বছর বকেয়া থাকবে। এ মার্কেটে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণগ্রহীতারা বিনিয়োগ করে থাকেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি সংস্থা আইসিই ডাটা সার্ভিসের সূচক অনুযায়ী, এ ধরনের ঋণগ্রহীতারা গড় ৬ শতাংশ সুদহারে বন্ড বিক্রি করেছে। কিন্তু বর্তমানে কোম্পানিগুলোকে এখন সেটা নিতে হচ্ছে প্রায় ৯ শতাংশ হারে।
ঋণ বিশেষজ্ঞ ও বিনিয়োগকারীরা স্বীকার করছেন, সুদহার বাড়ানোর ক্ষয়ক্ষতি সমাধানযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে নাকি অর্থনীতি অস্থিতিশীল করে দিয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি নির্ভর করছে সুদহার কতটা উঁচুতে উঠবে, কত দিন স্থায়ী হবে, এসব প্রশ্নের ওপর।










