সংগঠনটি বলছে, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট এবং জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতাকে ক্রমাগত দুর্বল করে দিচ্ছে। তবে বেসরকারি খাতের সরাসরি অংশগ্রহণে একটি সমন্বিত জ্বালানি নীতি প্রণয়নে সরকারের সাম্প্রতিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে আইবিএফবি। সংগঠনটি মনে করে, এ সময়োপযোগী পদক্ষেপ দেশে নতুন বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে এটি একটি শক্তিশালী পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের টেকসই ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আইবিএফবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল এ তথ্য জানানো হয়।

চলমান সংকট সমাধানে সংগঠনটি কয়েকটি জরুরি ও কৌশলগত সুপারিশ পেশ করেছে। তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হিসেবে আইবিএফবি রফতানিমুখী শিল্প, ইপিজেড, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং এসএমই খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট ও পূর্বঘোষিত লোডশেডিং সূচি প্রকাশ এবং জ্বালানিনির্ভর ক্ষতিগ্রস্ত এসএমই খাতের জন্য সাময়িক সহায়তা দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

সংগঠনটি মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিধি সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। স্মার্ট প্রযুক্তি ও অ্যানালিটিক্সের মাধ্যমে জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড আধুনিকীকরণ, এলএনজির আন্তর্জাতিক দামের ওঠানামার ঝুঁকি কমাতে আঞ্চলিক জ্বালানি সহযোগিতা জোরদার এবং জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রিড সিস্টেম লস কমানোর তাগিদ দিয়েছে। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ, ক্যাপটিভ পাওয়ার ও জ্বালানি অবকাঠামোয় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও নিয়মিত অগ্রগতি মূল্যায়নসহ একটি জাতীয় জ্বালানি মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সুপারিশ করে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, সরকার, বেসরকারি খাত, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগই বর্তমান জ্বালানি সংকটকে প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনায় পরিণত করতে পারে। দেশের শিল্প সুরক্ষা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করা এখন সময়ের অপরিহার্য দাবি বলে জানিয়েছে আইবিএফবি।