সৌদি আরব এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের স্থানীয় গ্রেড আরব লাইট ক্রুডের দাম কমিয়েছে। জানুয়ারিতে সরবরাহযোগ্য জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে মূল্যহ্রাসের এ সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে। সাত মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো এর দাম কমানো হলো। খবর রয়র্টাস।
স্পট মার্কেটে সম্প্রতি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে, যা পর্যাপ্ত সরবরাহ ও চাহিদা কমে যাওয়ারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে এশিয়ার পরিশোধন কেন্দ্র বা রিফাইনারিগুলোয় বর্তমানে বেশ ভালো সরবরাহ রয়েছে।
কভিড-১৯ মহামারীর ধাক্কা সামলে এ অঞ্চলে দ্রুতগতিতে চাহিদা বাড়ার প্রত্যাশা করেছিলেন বাজার বিশ্লেষকরা। কিন্তু চাহিদা খুব ধীর গতিতে বাড়ছে। সরবরাহ চাহিদাকে ছাড়িয়ে গেছে। ফলে আমদানি কমিয়ে দিয়েছে রিফাইনারিগুলো। এমন পরিস্থিতিতে বাজারে প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখতেই সৌদি আরব এশিয়ার জন্য আরব লাইট ক্রুডের দাম কমিয়েছে, যা দেশটিকে এশিয়ায় বাজার হিস্যা ধরে রাখতে সহায়তা করবে।
সূত্র বলছে, জানুয়ারিতে এশিয়া অভিমুখী আরব লাইট ক্রুডের আনুষ্ঠানিক বিক্রয়মূল্য (ওএসপি) ডিসেম্বরের তুলনায় ৫০ সেন্ট কমিয়েছে সৌদি জ্বালানি জায়ান্ট আরামকো। সে হিসাবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ওমান ও দুবাই বাজার আদর্শের বিপরীতে আরব লাইট ক্রুডের ওএসপি নেমেছে ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলার ৫০ সেন্টে। এর অর্থ হলো জানুয়ারিতে ওমান বা দুবাই ক্রুডের দাম যদি ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার হয়, তবে এশিয়ার রিফাইনারিগুলোকে আরব লাইট ক্রুড কিনতে হবে ১০৩ ডলার ৫০ সেন্টে।
তবে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, আরব লাইট ক্রুডের ওএসপি ডিসেম্বরের তুলনায় ১ ডলার কমতে পারে বলে প্রত্যাশা করছিলেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।
এদিকে দাম কমানো হলেও এটিকে এখনো অনেক বেশি বলেই মনে করছেন এশিয়ার রিফানারিসংশ্লিষ্টরা। ফলে দেশটির বদলে স্পট মার্কেট থেকে অন্য দেশ থেকে ক্রয়ের পরিমাণ বাড়াতে পারেন তারা।
এদিকে আবারো অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওপেক ও সহযোগী দেশগুলো। ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে জোটভুক্ত কয়েকটি দেশ দৈনিক ২২ লাখ ব্যারেল করে উত্তোলন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিতে বিশ্বের শীর্ষ দেশ সৌদি আরব। উত্তোলন কমানোর ক্ষেত্রে এবার এগিয়ে আছে দেশটি। যদিও নতুন করে উত্তোলন কমানোর ঘোষণা দেয়নি সৌদি আরব। দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল করে উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্তে ডিসেম্বরের পর আরো তিন মাস মেয়াদ বাড়িয়েছে দেশটি।
বিশ্ববাজারে দাম বাড়াতে চলতি বছর কয়েক দফায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন ও রফতানি কমিয়েছে জোটভুক্ত দেশগুলো। ফলে জ্বালানিটির বাজারে সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বলছে, উত্তোলন ও রফতানি কমানোর এ ধারা অব্যাহত থাকলেও আগামী বছর সরবরাহ উদ্বৃত্তে ফিরবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আগামী বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ চাহিদাকে ছাড়িয়ে যাবে। ওপেক ও সহযোগী দেশগুলো কমালেও যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলসহ জোটের বাইরের দেশগুলোয় উত্তোলন বাড়বে লক্ষণীয় মাত্রায়, যা বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়াতে প্রধান ভূমিকা রাখবে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্যমতে, চলতি বছরের শেষ নাগাদ অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা দাঁড়াতে পারে দৈনিক ১০ কোটি ২০ লাখ ব্যারেলে। এক্ষেত্রে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে চীন। দেশটিতে জ্বালানিটির ব্যবহার নজিরবিহীন বাড়ছে। চলতি বছর চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকলেও আগামী বছর তা বাড়বে বলে জানিয়েছে জ্বালানি সংস্থা। এ সময় চাহিদা দৈনিক ১০ কোটি ২৯ লাখ ব্যারেলে পৌঁছতে পারে। তবে সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে দৈনিক ১০ কোটি ৩৪ লাখ ব্যারেলে।










