সেপ্টেম্বরে ভারতের পরিষেবা খাতের বৃদ্ধি ধীর হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা ও প্রতিকূল নীতির কারণে দেশটির পরিষেবা খাত ধীর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল ইন্ডিয়া সার্ভিসেস পারচেজ ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই)। খবর দ্য হিন্দু।
পিএমআই জরিপ অনুসারে, গত মাসে ভারতের পরিষেবা খাতের বৃদ্ধি ছয় মাসের সর্বনিম্নে দাঁড়িয়েছে। সেপ্টেম্বরে এ খাতের পিএমআই ৫৪ দশমিক ৩ পয়েন্টে নেমে এসেছে। যেখানে আগস্টে এ সূচক ৫৭ দশমিক ২ পয়েন্টে ছিল। পিএমআই ৫০ পয়েন্টের ওপরে বৃদ্ধি এবং এর নিচে নামলে সেটি ওই খাতের সংকোচনকে নির্দেশ করে।
এ নিয়ে টানা ১৪তম মাসে ভারতের পরিষেবা খাত ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। যদিও এ সময়ে বৃদ্ধির গতি ধীর হয়েছে। পরিষেবা খাতের বৃদ্ধি ধীর হওয়ায় সেটি নতুন কর্মসংস্থানেও প্রভাব ফেলেছে। যদিও প্রতিষ্ঠানগুলো ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। তবে এ সময়ে ব্যবসায়িক আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার অব্যাহত ছিল। গত মাসে এ সূচক গত সাড়ে সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চে ছিল।
এদিকে সেপ্টেম্বরে উৎপাদন মূল্যস্ফীতি আগস্টের কাছাকাছি ছিল। যদিও এ হার গত ১১ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। তবে বিক্রয়মূল্য বাড়ার হার গত মার্চের পর সর্বনিম্ন ছিল। তবে এ সময়ে গ্রাহকদের ওপর আরোপিত চার্জের মাধ্যমে দেশটির পরিবহন, তথ্য ও যোগাযোগ সম্পর্কিত খাতগুলোর বৃদ্ধি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এ সময়ে উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, খাদ্যপণ্য, শ্রম ও কাঁচামালের মতো ক্ষেত্রগুলো উল্লেখযোগ্য ব্যয় বাড়ার কথা জানিয়েছে ভোক্তা পরিষেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল এক বিবৃতিতে জানায়, দেশের বাইরে থেকে দুর্বল চাহিদা সেপ্টেম্বরে সামগ্রিক বিক্রিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। গত মাসে আন্তর্জাতিক ক্রয়াদেশ আরো কমেছে। ভারতে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর থেকে প্রতি মাসে পরিষেবা খাত সংকোচনের রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়েছে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী পরিচালক পলিয়ানা ডি লিমা সতর্ক করে বলেন, সেপ্টেম্বরে পরিষেবা খাতের বৃদ্ধি কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে রুপির বিনিময় হারে পতন এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে আগামী মাসগুলো এ খাতের জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সেপ্টেম্বর শেষে রুপির বিনিময় হারে পতনের কারণে ভারতের অর্থনীতি অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে।










