২০১১ সালে আফ্রিকার খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ম্যাসমার্টের বড় অংশের শেয়ার কিনে নেয় ওয়ালমার্ট। সে মুহূর্তে আফ্রিকার বাজারে এ বিনিয়োগ অনেকটা বাজি ধরার মতোই ছিল। তখন মার্কিন খুচরা বিক্রেতা জায়ান্টের লক্ষ্য ছিল আফ্রিকা মহাদেশের বিশাল ও অব্যবহূত বাজারের নিয়ন্ত্রণ নেয়া।
রয়টার্সের খবর অনুসারে, আফ্রিকায় পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবসা বিস্তৃত করতে পারেনি ওয়ালমার্ট। এক দশকেরও বেশি সময় পর ম্যাসমার্টের ব্যালান্সশিট ঋণের ভারে জর্জরিত। একের পর এক লোকসানে ডুবেছে প্রতিষ্ঠানটি, বাণিজ্যিক সম্পত্তি লিজের বিষয়েও কিছু সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।
দেরি করে ই-কমার্সে প্রবেশ, তাজা খাবার সরবরাহে সংকটসহ আফ্রিকার বাজারে ওয়ালমার্টের যাত্রার পুরোটাই ছিল বেশকিছু ভুল পদক্ষেপে ভরা। এর মধ্যে অর্থনৈতিক মন্দা ও কভিড-১৯ মহামারী এসে পরিস্থিতি আরো জটিল করে তোলে। তবে এর পরও আফ্রিকার বাজার ছেড়ে যাচ্ছে না ওয়ালমার্ট। যেমনটি দেখা গিয়েছিল ব্রিটেন ও জার্মানিতে। বরং এবার আফ্রিকায় দ্বিগুণ বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
২০২১ সালে মোটর বিক্রির মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ অনলাইনে হয়েছে ম্যাসমার্টের। একে তো ই-কমার্সে দেরি করে প্রবেশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি, তার ওপর আফ্রিকার বাজার তুলনামূলক কম উন্নত। অন্যদিকে ই-কমার্স থেকে ওয়ালমার্টের আন্তর্জাতিক আয় ছিল ১ হাজার ৮৫০ কোটি ডলার।
এ অবস্থায় ওয়ালমার্টের পরিকল্পনা হলো, ই-কমার্স খাতে তাদের সব সক্ষমতা ও উদ্যম ম্যাসমার্টের কাজে লাগানো। এজন্য বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পুঁজিবাজার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে আসছে ম্যাসমার্ট। এর মাধ্যমে ম্যাসমার্টে সরাসরি মূলধন বিনিয়োগ করতে পারবে ওয়ালমার্ট। এছাড়া যে শেয়ারহোল্ডাররা গত তিন বছর কোনো লভ্যাংশ পাননি, তাদের চাপ ছাড়াই প্রয়োজনে আরো লোকসান গুনতে পারবে ম্যাসমার্ট।
আফ্রিকার বাজারকে বলা হয় বিশ্বের সবশেষ অব্যবহূত খুচরা বাজার। এখানে লাখো ভোক্তা রয়েছেন, রয়েছে পরিবারভিত্তিক খরচের নানা খাত। এ অঞ্চলের মানুষের প্রয়োজন বুঝে সে অনুসারে বাজার সাজানো হবে বলে জানিয়েছেন ওয়ালমার্ট ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট জুডিথ ম্যাককেনা। মানুষের চাহিদা মাথায় রেখেই ব্যবসার পরিকল্পনা করা হবে।
তবে খাতসংশ্লিষ্ট অনেকেই ওয়ালমার্টের পরিকল্পনার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। বলা হচ্ছে, এ পরিকল্পনার মাধ্যমে আফ্রিকার বাজারে নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে। যদিও এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ পোষণ করছেন কেউ কেউ।










