যুক্তরাজ্যে বাড়ির দাম বেড়েই চলছে। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও চলতি অক্টোবরে বাড়ির দাম বেড়েছে। তবে সুদের হার বাড়ায় নতুন ক্রেতারা মর্টগেজের প্রতি বেশি ঝুঁকছেন। রিয়েল এস্টেট কোম্পানি রাইটমুভের তথ্য বলেছে, চলতি মাসে বিক্রি হওয়া বাড়ির গড় মূল্য দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩ লাখ ৭১ হাজার ১৫৮ ইউরোর রেকর্ড করেছে, যা বার্ষিক গড় বৃদ্ধির তুলনায় সামান্য কম। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
রাইটমুভ বলছে, গত মাসে সরকারের মিনি বাজেটের পর থেকে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক অস্থিরতা থাকায় আবাসন বাজারে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। ২০১৯ সালের তুলনায় বেশি থাকলেও ২০২১ সালের তুলনায় গত দুই সপ্তাহে প্রথম বাড়ি কিনবে এমন ক্রেতাদের চাহিদা ২১ শতাংশ কমেছে। অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে ক্রেতার বড় একটি অংশ মর্টগেজের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে বিশ্লেষকরা এ ধারণা করছেন, যুক্তরাজ্যের আবাসন বাজার শিগগিরই নিম্নমুখী হবে। এ বছরের সেপ্টেম্বরে আবাসন ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান হ্যালিফ্যাক্স বাড়ি বিক্রির দামে কিছুটা হ্রাসের ইঙ্গিত দিয়েছে। এছাড়া জরিপকারী রয়েল ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড সার্ভেয়ার (আরআইসিএস) প্রতিষ্ঠান বলছে, আগামী বছর যুক্তরাজ্যের গত ১৩ বছরের আবাসন খাতের রমরমা বাজার কিছুটা শিথিল হবে। হুটহাট অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি এবং সরকারের করনীতির কারণে নতুন ক্রেতারা বাড়ি ক্রয়ের পরিকল্পনা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন। আগে থেকেই ঠিক করে রাখা দামে মর্টগেজ চুক্তিগুলোর প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, কিছু মর্টগেজ ক্রেতা তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন চুক্তি করছেন।
গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাজ্যের সাবেক অর্থমন্ত্রী কোয়াসি কোয়ার্টেংয়ের মিনি বাজেট অর্থনৈতিক বাজারকে অস্থিতিশীল করে তোলে এবং উচ্চমাত্রায় সুদের হার বাড়ায় প্রায় হাজারখানেক মর্টগেজ চুক্তির বিক্রি থেকে ঋণদাতারা সরে গিয়েছেন। আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরে বাড়ি বিক্রির দাম কমার ইঙ্গিত দিয়ে রাইটমুভের পরিচালক টিম ব্যানিস্টার বলেন, বাড়ি বিক্রিতে দাম বাড়ায় ক্রেতারা অনাগ্রহী হচ্ছেন। আবার সুদের হার ও বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির কারণে মর্টগেজ চুক্তিতে ক্রেতাদের ঝোঁক বাড়ছে।










