চলতি বছরের এপ্রিল-নভেম্বর পর্যন্ত রাশিয়া থেকে ভারতে ইস্পাত আমদানি ৪৬৮ শতাংশ বেড়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। খবর দ্য হিন্দু বিজনেসলাইন।
আট মাসে ভারতে ২ লাখ ১৮ হাজার টন ইস্পাত আমদানি হয়েছে। যার মূল্য ২৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার। যেখানে গত বছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৩৮ হাজার ৪০০ টন ও মোট মূল্য ছিল ৬ কোটি ১০ লাখ ডলার। কম মূল্যে ইস্পাত সরবরাহ, দেশীয় কারখানাগুলোর বিক্রি কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম থাকায় রাশিয়া, চীন, কোরিয়াসহ অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি বেড়েছে। ভারতের বড় ইস্পাত কারখানাগুলো কয়েক মাস ধরে এসব বিষয়ের কথা জানিয়ে আসছে।
ভারতের কেন্দ্রীয় ইস্পাত মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনের বরাতে বিজনেসলাইন জানায়, বিপুল ইস্পাত সরবরাহের কারণে রাশিয়া চতুর্থ বৃহৎ সরবরাহকারীর খেতাব পেলেও সবচেয়ে বেশি রফতানি করেছে কোরিয়া। পরিমাণ ও মূল্য দুই দিক থেকেই কোরিয়া শীর্ষে। এপ্রিল-নভেম্বর পর্যন্ত ভারতে ১৫ লাখ টন ইস্পাত রফতানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি।
ভারতে ইস্পাত রফতানির দিক থেকে অন্য শীর্ষ দেশগুলো হলো চীন, জাপান ও ইন্দোনেশিয়া। গত বছরের তুলনায় চীন ও ইন্দোনেশিয়ার রফতানি যথাক্রমে ৬৯ ও ৩ শতাংশ বেড়েছে। যেখানে জাপানের রফতানি ৬৯ শতাংশ কমেছে। বছরওয়ারি হিসাবে ভারতের ইস্পাত আমদানি ছয় মাসে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। জুন-নভেম্বর পর্যন্ত এর হার ৪ লাখ ৪৪ হাজার থেকে ছয় লাখ টনে ওঠানামা করেছে। নভেম্বরে সবচেয়ে বেশি ৯২ শতাংশ আমদানি বেড়েছে।
রাশিয়া থেকে আমদানি করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৪০০ টন হট রোলড কয়েল ও স্ট্রিপ, ৯ হাজার ২০০ টন গ্যালভানাইজড প্লেন ও ঢেউ আকারের শিট (জিপি/জিসি শিট), ৫০ হাজার ৪০০ টন বৈদ্যুতিক শিট ও আরো ১০০ টন উপাদান।
রাশিয়া থেকে আশা সেমি ফিনিশড ইস্পাতের মূল্য ছিল ২৯ লাখ ডলার। যেখানে ফিনিশড ইস্পাতের মূল্য ছিল ২৫ কোটি ডলার। প্রথম দফায় জুলাইয়ে ও দ্বিতীয়তে অক্টোবর-নভেম্বরে ভারত ইস্পাত আমদানির লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়েছে। তবে আট মাসের মধ্যে দেশটি রফতানিকারক হিসেবে পরিচিত ছিল।
গত অক্টোবরের শেষের দিকে ওয়ার্ল্ড স্টিল এক পূর্বাভাসে জানায়, ২০২২ সালে বৈশ্বিক কয়লার চাহিদা ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে দাঁড়াবে ১৭৯ কোটি ৬৭ লাখ টনে। তবে নতুন বছরে ঘুরে দাঁড়িয়ে ১৮১ কোটি ৪৭ লাখ টন ইস্পাতের চাহিদা তৈরি হতে পারে।










