আগের বছরের চেয়ে ২০২৩ সালে নিট মুনাফা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে চীনের অন্যতম প্রযুক্তি সংস্থা হুয়াওয়ে টেকনোলজিসের। যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক নিষেধাজ্ঞায় থাকা সত্ত্বেও এ সময় সব ব্যবসায়িক বিভাগে প্রবৃদ্ধি ঘটেছে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। খবর নিক্কেই এশিয়া।
২০২৩ সালে ৮ হাজার ৭০০ কোটি ইউয়ানের (১ হাজার ২০০ কোটি ডলার) বেশি নিট মুনাফা করেছে হুয়াওয়ে। ২০২১ সালে বাজারে আসা একটি বাজেট ফোনের অপ্রকাশিত আয় বাদ দিলে পাঁচ বছরের মধ্যে গত বছর সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জন করেছে এ টেক জায়ান্ট।
কয়েক বছর ধরে ওয়াশিংটনের কঠোর নজরদারির মধ্যে রয়েছে হুয়াওয়ে। এ কারণে প্রযুক্তি হস্তান্তর ও রফতানি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে পড়ে। তবে অভ্যন্তরীণ স্মার্টফোন বাজারে হুয়াওয়ের পুনরুত্থান অ্যাপলের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর নতুন ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে।
একসময়ের বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্মার্টফোন নির্মাতা হুয়াওয়ে জানিয়েছে, ভোক্তা ইলেকট্রনিকস ব্যবসা থেকে আয় ২০২৩ সালে বছরওয়ারি ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ১৫০ কোটি ইউয়ান। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকেও বিক্রির সেই গতি অব্যাহত রয়েছে।
এ সময় হুয়াওয়ের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম হারমোনিওএস সব প্লাটফর্ম মিলিয়ে ৮০ কোটির বেশি ডিভাইসে ইনস্টল করা হয়েছে। ২০২২ সালে ইনস্টল করা হয়েছিল প্রায় ৩৩ কোটি ডিভাইসে।
ওয়াশিংটন নিজেদের প্রযুক্তিতে হুয়াওয়ের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়ার পর অ্যান্ড্রয়েড ওএসের পরবর্তী সংস্করণ তৈরির দিকে মনোযোগ দেয় চীনা প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমানে প্রায় ৩৯০ কোটি সক্রিয় স্মার্টফোনে ব্যবহার হচ্ছে অ্যান্ড্রয়েড ওএস।
২০২৩ সালে হুয়াওয়ের স্মার্টফোন চালানের ৯৪ শতাংশই চীনে বিক্রি হয়েছে। এ পুনরুত্থান চীনের অতিপ্রতিযোগিতার বাজারে চাপ তৈরি করেছে। এরই মধ্যে অ্যাপল অতিরিক্ত বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে, যার উল্লেখযোগ্য অংশ খরচ হবে প্রচারণায়। ২০২৩ সালে হুয়াওয়ের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা পূর্বাভাসের সঙ্গে ‘সংগতিপূর্ণ’ ছিল বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন হুয়াওয়ের চেয়ারম্যান কেন হু। তিনি বলেন, ‘একের পর এক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও কোম্পানি আয় বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে।’
গত বছর গবেষণা ও উন্নয়নে ১৬ হাজার ৪৭০ কোটি ইউয়ান ব্যয় করেছে হুয়াওয়ে, যা মোট আয়ের প্রায় ২৩ দশমিক ৪ শতাংশ। গত এক দশকে প্রতিষ্ঠানটি এ খাতে মোট ১ দশমিক ১১ ট্রিলিয়ন ইউয়ান খরচ করেছে।










