ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিমান হামলার কারণে লোহিত সাগরে সৃষ্ট বৈশ্বিক বাণিজ্যের নতুন সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ততম রুটটি অচল হয়ে পড়ায় এরই মধ্যে বেড়ে গেছে পণ্যবাহী কনটেইনারের ভাড়া। খবর রয়টার্স।

লোহিত সাগরে জড়ো হয়েছে মার্কিন ও ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান, জাহাজ ও সাবমেরিন। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রাতে তারা ইয়েমেন জুড়ে কয়েক ডজন হামলা চালিয়েছে। হামাসের সমর্থনে লোহিত সাগরে ইসরায়েলমুখী জাহাজে হুথি হামলার প্রতিক্রিয়ায় এ পদক্ষেপ নিয়েছে পশ্চিমারা।

গত এ নভেম্বর সংকট সৃষ্টির হয়। এরপর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বেশিরভাগ কনটেইনার জাহাজ সুয়েজ খাল এড়িয়ে চলছিল। অথচ এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যকার এ সংক্ষিপ্ত পথেই পরিচালিত হয় বিশ্ব বাণিজ্যের ১২ শতাংশ। এখন বিরোধপূর্ণ অঞ্চল থেকে সব নৌযানকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। এ অবস্থায় পণ্য পরিবহনে খরচ বেড়ে যাচ্ছে, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

বেঞ্চমার্ক সাংহাই কনটেইনারাইজড ফ্রেইট ইনডেক্স অনুযায়ী গতকাল শুক্রবার এক সপ্তাহ আগের চেয়ে ১৬ শতাংশ দুই হাজার ২০৬ পয়েন্টে হয়েছে। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে চীনের বন্দরগুলোর বাইরে কনটেইনার চালানের জন্য স্পট মার্কেটে রেট ১১৪ শতাংশ বেড়েছে।

সাংহাই-ইউরোপ রুটে দাম এক সপ্তাহ আগের থেকে গতকাল শুক্রবার প্রতি ২০-ফুট কনটেইনারে রেট ৮ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে তিন হাজার ১০৩ ডলার হয়েছে। চলমান ঘটনা প্রবাহ থেকে দূরে থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে ৪০ ফুট কনটেইনারে রেট ৪৩ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে তিন হাজার ৯৭৪ ডলার হয়েছে।

ফ্রেইট প্ল্যাটফর্ম জেনেটার প্রধান বিশ্লেষক পিটার স্যান্ড গতকাল শুক্রবার বলেন, এই সংকট যত দীর্ঘ হবে, সারা বিশ্বে সমুদ্রের পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল আরো বিঘ্নিত হবে ও খরচ বাড়তে থাকবে।

এরই মধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশের বেশি ওঠা-নামার সঙ্গে যুক্ত প্রধান সংস্থাগুলো কয়েক মাসের খরচ বৃদ্ধির প্রবণতার জন্য প্রস্তুত গেছে।

এ বিষয়ে লজিস্টিকস সংস্থা কুনে+নাগেলের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইকেল অ্যাল্ডওয়েল বলেন, যদি আজ বলা হয় বাব আল-মান্দেব প্রণালীকে যদি চলাচলের জন্য নিরাপদ, তারপরও জাহাজগুলোর রুটিন বিন্যাস করে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পৌঁছাতে ন্যূনতম দুই মাস সময় লাগবে।

মায়েরস্ক ও হ্যাপাগ-লয়েডের মতো প্রধান কনটেইনার লাইনের মালিকরা সুয়েজ খালের রুট পরিবর্তন করে উত্তমাশা অন্তরীপ বেছে নিয়েছেন। দীর্ঘ এ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে খরচ বেড়েছে। বলা হচ্ছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রুটে এক মাস আগের চেয়ে পরিবহন খরচ কমপক্ষে দ্বিগুণ হয়েছে। অবশ্য কভিড মহামারীকালীন পরিস্থিতির চেয়ে কম।

আফ্রিকার দিকে যাত্রা করা এশিয়া ও ইউরোপের প্রতিটি জাহাজকে বাড়তি খরচের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। প্রতিটি একমুখী সমুদ্রযাত্রার জন্য মোটামুটি ১০ দিন ও ১০ লাখ ডলার বাড়তি জ্বালানি খরচ যোগ হচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার চারটি তেল ট্যাঙ্কার লোহিত সাগর এড়াতে গিয়ে মাঝে সমুদ্র থেকে পথ বদলেছে। অন্য পাঁচটি হয় ডাইভারশন করেছে বা যাত্রা বিরতি করেছে।

ব্রেকওয়েভ অ্যাডভাইজার্সের ব্যবস্থাপনা অংশীদার জন কার্টসোনাস বলেছেন, এ অবস্থায় ট্যাংকারের ভাড়া বাড়বে ও আজ সকালে ফিউচার বেড়ে যাবে। তবে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম এমন পণ্যের চালান কম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।৷

টেসলা, ভলভো কার ও আইকিয়ার মতো প্রধান আমদানিকারকরা এর মধ্যেই পণ্যের ঘাটতি বা দেরিতে পৌঁছার খবর জানিয়েছে দিয়েছে।