সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) পণ্য রফতানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫০ কোটি টাকারও বেশি বেড়েছে। ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা এ তথ্য জানিয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের চাহিদা থাকায় রফতানি আয় বেড়েছে। এলসি জটিলতাসহ নানা কারণে পণ্য আমদানি বাড়ছে না। এসব সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে আমদানি সহজ করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব শাখা জানায়, চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর মাস পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে ১ লাখ ২৬ হাজার ৬৯৬ টন বাংলাদেশী পণ্য রফতানি হয়েছে। রফতানীকৃত এসব পণ্য থেকে আয় হয়েছে ১ হাজার ৪২৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। অন্যদিকে গত ২০২১-২২ অথর্বছরের প্রথম পাঁচ মাসে বন্দর দিয়ে পণ্য রফতানি হয়েছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৮ টন। এসব পণ্য থেকে আয় হয় ১ হাজার ২৬৯ কোটি ১২ লাখ টাকা। সে হিসেবে আয় বেড়েছে ১৫৮ কোটি ৪ লাখ টাকা।

এ বন্দর দিয়ে যেসব পণ্য রফতানি হয় তার মধ্যে অন্যতম গার্মেন্টস বর্জ্য, তাঁতের শাড়ি,  রাইস ব্র্যান অয়েল, মধু, ক্লিনিক ক্লথ, পাটের সুতা, পাটের চট, নারকেলের শলা, প্রাণের জুস, লিচু ড্রিংকস, প্রাণের চানাচুর ও চিপস।

ভোমরা স্থলবন্দরের মেসার্স রাজ ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী জাকির হোসেন মন্টু জানান, আমদানির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের পণ্যসামগ্রী ভারতে রফতানি করে তার প্রতিষ্ঠান। রফতানীকৃত এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে প্রাণ গ্রুপের জুস, লিচু ড্রিংকস, প্রাণের চানাচুর ও চিপস। গত অর্থবছরের তুলনায় তার প্রতিষ্ঠানে পণ্য রফতানি অন্তত ১৫-২০ শতাংশ বেড়েছে।

ভোমরা স্থলবন্দরের অন্যতম পণ্য আমদানি-রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স গনি অ্যান্ড সন্সের ব্যবস্থাপক অশোক কুমার জানান, গার্মেন্টস বর্জ্য, সুতার বর্জ্য ও রাইস ব্র্যান অয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য রফতানি করে তার প্রতিষ্ঠান। ভারতের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী থাকায় রফতানি আয় কিছুটা বেড়েছে।

সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু জানান, অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রফতানি বেড়েছে। তবে আমদানি পরিস্থিতি ভালো নয়। আমদানিতে নানা ধরনের বৈষম্য রয়েছে এ বন্দরে। ভোমরার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত কলকাতার যোগাযোগ ব্যবস্থা যথেষ্ট ভালো। কোনো ধরনের যানজট বা পণ্যজট নেই। তার পরও সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি নেই ভোমরা স্থলবন্দরের। তিনি বলেন, সম্ভাবনাময় এ বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের সব পণ্য আমদানির সুযোগ দিলে সরকারের রাজস্ব আয় অনেকাংশে বেড়ে যাবে। 

ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কাজী দিলওয়ার নওশাদ রাজু জানান, ভারত থেকে যে পরিমাণ পণ্য আমদানি করা হয় সে তুলনায় রফতানির পরিমাণ খুবই নগণ্য। তার পরও গত অর্থবছরের তুলনায় রফতানি আয় বেড়েছে। তবে পণ্য আমদানিতে কোনো জটিলতা না থাকলে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সরকারও লাভবান হতো।

ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কাস্টমসের ডেপুটি সহকারী কমিশনার নেয়ামুল হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, ভারতের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের চাহিদা থাকায় রফতানি বেড়েছে। তবে রফতানি আয় বাড়লেও এখান থেকে সরকারের কোনো রাজস্ব আয় হয় না।