টানা কয়েক দিন বাড়তি থাকার পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি বাজারে আমদানি করা কাঁচামরিচের দাম কমতে শুরু করেছে। তিনদিনের ব্যবধানে এখানকার পাইকারি বাজারে পণ্যটির দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা কমেছে। এ সময় আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৪ টাকা কমেছে।

গতকাল হিলির পাইকারি আড়তগুলো ঘুরে ভারত থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ট্রাকসেলে মানভেদে ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। তিনদিন আগেও আমদানি করা এসব কাঁচামরিচ মানভেদে কেজিপ্রতি ১০০-১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সেই হিসাবে তিনদিনের ব্যবধানে হিলির পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচের দাম কমেছে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা।

কাঁচামরিচের দরপতনের বিষয়ে স্থানীয় আমদানিকারক আনোয়ার হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, দেশে ও ভারতে বন্যার কারণে কাঁচামরিচের দাম বাড়তি রয়েছে। অনেক জায়গায় কাঁচামরিচ ক্ষেতেই নষ্ট হয়েছে। সরবরাহে তৈরি হয়েছে বিঘ্ন। এ পরিস্থিতিতে ভারত থেকে আমদানি বাড়িয়ে পণ্যটির মূল্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছিলেন আমদানিকারক ও বিক্রেতারা। মাঝে আমদানি শ্লথ হয়ে আসায় দাম বেড়েছিল কাঁচামরিচের। তবে বর্তমানে আমদানি আগের তুলনায় বেড়েছে। এখন ভারতের বিহার থেকে পণ্যটি আমদানি করা হচ্ছে। এর জের ধরে ফের কাঁচামরিচের দাম কমতে শুরু করেছে।

এদিকে কাঁচামরিচের পাশাপাশি হিলির পাইকারি বাজারে আমদানি বৃদ্ধির জের ধরে পেঁয়াজের দামও কমে এসেছে। গতকাল হিলির পাইকারি আড়তগুলো ঘুরে ভারত থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ ট্রাকসেলে মানভেদে ৩৫-৩৬ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। তিনদিন আগেও আমদানি করা এসব পেঁয়াজ মানভেদে কেজিপ্রতি ৩৮-৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সেই হিসাবে তিনদিনের ব্যবধানে হিলির পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম কমেছে সর্বোচ্চ ৪ টাকা।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ১৮টি ট্রাকে ১০১ টন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। আর ৩৪টি ট্রাকে মোট ৯২৬ টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। এখানকার পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের দাম কমে আসার পেছনে এটা প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।

স্থানীয় পেঁয়াজ আমদানিকারক রবিউল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, দেশের বাজারে পেঁয়াজের এ দরপতন সাময়িক। আমদানি আগের তুলনায় একটু বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কমেছে। তবে টানা কয়েক দিন পেঁয়াজের দাম বাড়তির পথে ছিল। এর প্রধান কারণ ভারতে বন্যার কারণে সরবরাহ বিঘ্ন ঘটায় পণ্যটির দাম বেড়ে যাওয়া। মহারাষ্ট্রের নাসিকে প্রতি কুইন্টাল পেঁয়াজের দাম ২ হাজার ৫০০ রুপি (ভারতীয় মুদ্রা) ছাড়িয়ে গেছে। মানও তুলনামূলক নিম্ন। তবে দক্ষিণ ভারতে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কম রয়েছে। সেখান থেকে পেঁয়াজ আমদানির চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।