নতুন রেকর্ড স্পর্শ করেছে ভিয়েতনামের চাল রফতানি। চলতি বছরের ১১ মাসে দেশটি তিন দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ রফতানি করেছে। বিশ্বজুড়ে শস্যটির ঊর্ধ্বমুখী চাহিদার কারণে রফতানিতে এমন প্রবৃদ্ধি এসেছে। তাছাড়া চাল রফতানিতে ভারতের বিধিনিষেধের কারণে সৃষ্ট সরবরাহ সংকটও রফতানি বাড়াতে বড় ভূমিকা পালন করেছে। খবর ভিয়েতনাম নেট।
ভিয়েতনাম বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ চাল রফতানিকারক। তথ্য বলছে, নভেম্বরে দেশটি ৭৮ লাখ টন চাল রফতানি করেছে, যা ১৯৮৯ সালের পর সর্বোচ্চ। এ সময় রফতানি থেকে আয় এসেছে ৪৪০ কোটি ডলার। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, চলতি বছর শেষে রফতানি ৮০ লাখ টন ছাড়াতে পারে। আয়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৪৬০ কোটি ডলারে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি গত বছর ৭০ লাখ টন চাল রফতানি করেছিল। চলতি বছরও রফতানির লক্ষ্যমাত্রা ছিল একই। বছর শেষ হওয়ার আগেই রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, বিশ্ববাজারে চালের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী। প্রধান প্রধান রফতানিকারক দেশগুলোয় শস্যটির দাম বাড়ছে। তবে ভিয়েতনামিজ চালের রফতানি মূল্য সে অনুপাতে বাড়েনি। এ কারণে গত মৌসুমের সমাপনী মজুদ কমে আসায় দেশটির সরবরাহও কমেছে, যার জন্য রফতানিকারকরা বেশি মাত্রায় দাম বাড়াতে পারেননি।
ভিয়েতনাম ফুড অ্যাসোসিয়েশনের দেয়া তথ্যমতে, গত দুই সপ্তাহে থাই চালের রফতানি মূল্য ৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য ৬৩২ ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা গত মাসের মাঝামাঝি সময়ের তুলনায় অন্তত ৫০ ডলার বেশি। পাকিস্তানের চালের দাম ৬০০ ডলার ও ভিয়েতনামের চালের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬৬৩ ডলারে।
থাই রাইস এক্সপোরর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, ভিয়েতনামে সরবরাহ কমে আসায় আমদানিকারকরা থাই চালের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। এ কারণে দেশটির চালের দাম সম্প্রতি লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে। থাই রফতানিকারকরা ফিলিপাইন ও ব্রাজিলের মতো অপ্রত্যাশিত ক্রেতাদের কাছ থেকে ক্রয়াদেশ পাচ্ছে।
উচ্চমূ্ল্য সত্ত্বেও গুণগত মান ও সতেজতার কারণে আমদানিকারকদের কাছে ভিয়েতনামের চালের কদর বেশি বলে জানান দেশটির ব্যবসায়ীরা। জমি থেকে সংগ্রহের পর অল্প সময়ের মধ্যেই দেশটি চাল রফতানি করে।
ভিয়েতনাম থেকে সবচেয়ে বেশি চাল আমদানি করে ফিলিপাইন। দেশটিতে চালের চাহিদা অব্যাহত বাড়ছে। জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দেশটির সরকার সম্প্রতি ব্যবসায়ীদের আমদানি বাড়ানোর নির্দেশনা দিয়েছে। ফলে দেশটিতে ভিয়েতনামের রফতানি আরো বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়াও ভিয়েতনামিজ চালের গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা। এ দেশও ভিয়েতনাম থেকে আমদানি বাড়াচ্ছে।










